Inspiration লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
Inspiration লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বুধবার, ১২ নভেম্বর, ২০১৪

আমি কখনো হাল ছাড়ি না

মারিয়া শারাপোভা বিশ্বের অন্যতম আলোচিত টেনিস খেলোয়াড়। শারাপোভার জন্ম রাশিয়ায়, ১৯৮৭ সালের ১৯ এপ্রিল। এ যাবৎ তিনি টেনিসের পাঁচটি গ্র্যান্ড স্লাম জয় করেছেন। ২০০৭ সাল থেকে মারিয়া জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচির শুভেচ্ছাদূত হিসেবে কাজ করছেন।
১৭ বছর বয়সে আমি উইম্বলডন জয় করি। এর কয়েক বছরের মধ্যেই মারাত্মকভাবে কাঁধের ইনজুরিতে পড়ে আমার খেলা বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়। আমার সামনে অনেক কারণ ছিল, যার জন্য টেনিস খেলাই ছেড়ে দেওয়ার কথা তুলেছিল অনেকে। ইচ্ছা করলেই তখন খেলা ছেড়ে দিতে পারতাম, কিন্তু হাল না ছেড়ে আবার কোর্টে নামার সাহস করি।
সত্যিকার অর্থে, আমার বেড়ে ওঠা ছিল ছাই থেকে। আবর্জনা থেকে আমার পরিবার মাথা তুলে দাঁড়ায়। আমার শিকড় কোথায়, সেটা আমি জানি। আমার শুরুর সেই কষ্টের দিনগুলো আমি কখনোই ভুলতে পারব না। আমার বাবা-মা দুজনেই বেলারুশ থেকে আসেন। আমি যখন মায়ের পেটে, তখন চেরনোবিল দুর্যোগ ঘটে। বাবা আর মায়ের কাজ চলে যায়। তাঁদের বাকি জীবনটা অনেক সংগ্রামের মধ্যে দিয়ে গেছে। আমি তাঁদের মেয়ে। বাবা চার বছর বয়সে আমার হাতে টেনিস র্যাকেট তুলে দেন। বাবাই ছিলেন আমার প্রথম কোচ। স্কুলে পড়াশোনা আর বাড়ির কাজ শেষ করে প্রতিদিন টেনিস অনুশীলনে নামতাম।
আমি কোনো কিছু ধরলে তা ছাড়ি না। আমার বিখ্যাত কোনো বন্ধু ছিল না, যার মাধ্যমে আমি খ্যাতি অর্জন করতে পারি। কিংবা আমি ফ্যাশন মডেল নই, যাকে কোনো লাইফস্টাইল ম্যাগাজিন বিখ্যাত করেছে। মূল কথা হচ্ছে, টেনিসই আমাকে সব দিয়েছে। ইনজুরিতে থাকার সময় যখন ম্যাগাজিন আর পত্রিকায় আমার ছবি দেখতাম, তখন ঠিক থাকতে পারতাম না। হাসপাতালে বসে কোর্টে দৌড়ানোর শব্দ পেতাম। আর দৌড়াব বলেই টেনিস কোর্টে ফিরে আসি।
আমি সব সময় মাঠে থাকতে চাই। প্রতিদিন। জয়-পরাজয় নিয়ে ভাবি না। মাঠে থাকাই সব। খেলা শেষে ঘেমে একাকার হয়ে বাড়ি ফিরতে চাই।
আমার বেড়ে ওঠা ছিল রাশিয়ার সোচি শহরে। যুক্তরাষ্ট্রে সবাইকে সোচি নামের বানান করে বলতে হতো। কেউ জানত না সোচি মানচিত্রের কোথায়। এখন আমার জন্য অনেকেই মানচিত্রে সোচি শহরকে চেনে। এটা অনেক আনন্দের। আমি যখন রাশিয়ার পতাকা নিয়ে কোথাও দাঁড়াই, তখন আমার চেয়ে গর্বিত আর কে হয় বলুন?
খেলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের এক টেনিস একাডেমিতে প্রশিক্ষণ নিতে এসেছিলাম। যার জন্য মায়ের সঙ্গে প্রায় দুই বছর দেখা হয়নি। তখন আমাদের মুঠোফোন ছিল না, কোনো ই-মেইলও ছিল না। একটা কলম আর এক টুকরা কাগজই ছিল আমার সব। মাকে চিঠি লিখতাম। চিঠি যখন মায়ের কাছে যেত, তখন আমার যে অনুভূতি হতো, তা এখনো শিহরিত করে।
টেনিস খেলার একাডেমিতে অন্য মেয়েরা আমাকে নিয়ে হাসত। বেশি ছোট ছিলাম বলে র্যাগিংয়ের শিকার হতাম। আমাকে টিজ করা হতো। তখন আমি হতাশ হয়ে একা একা কাঁদতাম, কিন্তু আমার লক্ষ্য আমি জানতাম। রেগে দেশে ফিরে গেলে আমি হয়তো আজকের আমি হতাম না। সব সময় আশাবাদী হয়ে থাকলে বিপদে পড়লেও নিজেকে নিজে উদ্ধার করা যায়। কষ্ট করে লেগে থাকতে হয় স্বপ্নের পেছনে।
২০০৪ সালে মাত্র ১৭ বছর বয়সে উইম্বলডন জেতা ছিল আমার জন্য বিস্ময়। এটা স্বপ্নের চেয়েও বেশি কিছু ছিল। কখনোই চিন্তা করিনি মাত্র দুই সপ্তাহে পৃথিবীর সেরা সব টেনিস খেলোয়াড়কে হারিয়ে দেব! ফাইনালে আমি সেরেনা উইলিয়ামসকে হারিয়ে দিই। আমি কতটা দুর্ধর্ষ টেনিস খেলোয়াড় হয়ে উঠেছিলাম, তা ভাবলে এখনো গায়ে কাঁটা দেয়। কোনো দিকে মন না দিয়ে টেনিস বলেই আঘাতের পর আঘাত করে গিয়েছি। ফলে ফাইনালে আমার হাতেই ছিল সেরার পদকটি।
বেঁচে থাকার জন্য আমি টেনিস বলকে আঘাত করি, পরিশ্রম করি। আমি সব সময় সবার কাছ থেকে শেখার আগ্রহ নিয়ে বসে থাকি। বাবা আর মায়ের কাছ থেকেই আমি কৌতূহলী হয়ে ওঠার নেশাটি পেয়েছি। আমার কাছে সবচেয়ে বড় আর গুরুত্বের বিষয় হলো, প্রথমে ভালো মানুষ হওয়া, তারপর পেশাদার ক্রীড়াবিদ হতে হবে। এটা সত্যি অনন্য এক চ্যালেঞ্জ।
বেঁচে থাকার জন্য বন্ধুর বিকল্প নেই। আমি সুযোগ পেলেই বন্ধুদের নিয়ে ঘুরতে যাই, গান গাই। টেনিস নিয়ে পড়ে থাকলেও পরিবারকে সময় দিই। যখন খুব হতাশায় ভুগি, তখন নিজেই নিজেকে সান্ত্বনা দিই। নেইলপলিশ হাতে গ্র্যান্ড স্লামের ট্রফিগুলো তোলার স্মৃতি বারবার মনে করে নিজেকে সাহস দিই। আর হতাশার মাত্রা চরমে উঠলে গলা ছেড়ে গান গাই। প্রতিদিন সকালে আমি গান শুনে বাড়ি থেকে বের হই। আমার দুনিয়ার সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় হলো মায়ের হাতের রান্না। মায়ের হাতের বৈচিত্র্যময় রান্নার জন্য বাড়ি ফেরার তাড়া থাকে আমার। আমি সময় পেলেই বইয়ের পাতায় হারিয়ে যাই। একই বই কয়েকবার পড়ার বাতিক আছে আমার।
আমাকে কেউ কেউ ‘সুগারপোভা’ নামে ডাকে। অনেক ছোটবেলা থেকে আমি চকলেটের ভক্ত। আমার দাঁতে সব সময় চিনি লেগে থাকত। আমি চাইতাম বড় হয়ে আমি চকলেটের দোকান দেব। বড় হয়ে ব্যবসায়ী হব। সত্যি সত্যি টেনিস খেলার ক্যারিয়ার শেষ করে ব্যবসা করতে নামব।
মানুষের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা সে নিজেই। নিজেকে সাফল্যের চূড়ায় দেখতে চাইলে মানসিকতার পরিবর্তন করতে হবে। যখন যা করো, তা-ই উপভোগ করো। বাড়িতে থাকলে টিভি দেখো, সিনেমা উপভোগ করো। হাসো। কিন্তু যখন কাজ করবে, তখন তাকে উপভোগ করো। নিজের প্রতিভা আর বুদ্ধি দিয়ে কঠিন সব কাজকে আয়ত্তে আনাই সফল ব্যক্তিদের কাজ। নিজের জীবনকে নিজেকেই আকর্ষণীয় করে তুলতে হয়। গণ্ডির মধ্যে না থেকে মাঝেমধ্যে পাগলামি করো। পাগলামি করা শেখো। সামান্য কিছুতেই হাসতে শেখো। হাসিই সবচেয়ে বড় ওষুধ। ঝুঁকি নিতে শেখো। দাঁতে পোকা ধরার ঝুঁকি থাকলেও মাঝেমধ্যে চকলেট খাও। নিজেকে নিয়ে খুশি থাকো!
কিশোর বয়সে যারা টেনিস খেলতে চায়, তাদের জন্য আমার পরামর্শ, লেগে থাকতে হবে। পড়তে হবে, জানতে হবে, খেলতে হবে। সবকিছুর জন্য চাই কঠিন অনুশীলন। ব্যর্থ হলেও লেগে থাকতেই হবে। সফল হলেও লেগে থাকতে হবে।
তথ্যসূত্র: টেলিগ্রাফকে দেওয়া সাক্ষাৎকার অবলম্বনে লিখেছেন
জাহিদ হোসাইন খান
http://www.prothom-alo.com/we-are/article/360427/%E0%A6%86%E0%A6%AE%E0%A6%BF-%E0%A6%95%E0%A6%96%E0%A6%A8%E0%A7%8B-%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%B2-%E0%A6%9B%E0%A6%BE%E0%A6%A1%E0%A6%BC%E0%A6%BF-%E0%A6%A8%E0%A6%BE

মঙ্গলবার, ২৮ অক্টোবর, ২০১৪

‘বাহ, লেখাপড়া না জেনেই এত বড় ব্যবসা সামলাচ্ছেন না জানি লেখাপড়া বেশী জানলে কি করতেন!’

 তৎকালীন লন্ডনের একটি চার্চে বেশ কড়া নিয়ম ছিলো। তারা সুশিক্ষিত না হলে কোনও পদেই চাকুরীর জন্য কাউকে নিয়োগ দিত না। এহেন অবস্থায় দারিদ্রের নিপীড়নের স্বীকার হয়ে ‘আলফ্রেড ডানহিল’ সেই চার্চে এলো কোনও রকমে কিছু করে খাবারের সুযোগের জন্যে। বুড়ো পাদ্রী ভীষণ দয়ালু আর ভাবলেন দরিদ্র এই লোকটিকে সাহায্য করা উনার নৈতিক দায়িত্ব। তিনি চার্চের নিয়মের বিরুদ্বে গিয়ে এই লোকটিকে সাফাই কর্মী পদে নিয়োগ দিলেন। ভাবলেন এই ক্ষুদ্র পদের জন্যে এতো শিক্ষার দরকার নেই। ডানহিলকে নিয়োগ দিলেও তিনি তাঁকে লেখাপড়া করে যাবার নির্দেশ দিলেন যাতে চার্চ পরবর্তীতে কোনও আপত্তি না করতে পারে।
‘আলফ্রেড ডানহিল’ এর বেশ চলে যাচ্ছিলো। এমন সময় হঠাত একদিন সেই বুড়ো পাদ্রী মারা গেলেন আর তার জায়গায় অভিষেক হলো এক নতুন তরুন পাদ্রীর। নতুন পাদ্রী কিছুদিন পরেই ‘আলফ্রেড ডানহিল’ – কে ডেকে কড়া ভাষায় নির্দেশ দিলেন, হয় আগামী ছয় মাসের মধ্যে তাঁকে শিক্ষা সনদ জমা করতে হবে নতুবা চাকরি থেকে বের হয়ে যেতে হবে।
‘আলফ্রেড ডানহিল’ এর বুঝতে বাকি থাকলো না এবার তার পাঠ চুকেছে। মন খারাপ করে কি করবে, কি ভাবে চলবে, এসব ভেবে ব্যস্ততম সড়কে (বন্ড ষ্ট্রীট) পায়চারী করছিলো। হঠাত তার সিগারেট খাবার প্রবল ইচ্ছা হলো। মনে হলো যেন মাথায় ধোঁয়া না ঢুকালে কিছুই ভেবে কুল করতে পারবে না। দুশ্চিন্তা বাদ দিয়ে এবার সিগারেটের খোঁজে ছুটল ‘আলফ্রেড ডানহিল’। সেই সড়কের শেষ প্রান্তে একটি ছোট গলির খুব ভিতরে গিয়ে সে একটি সিগারেটের দোকান খুঁজে পেলো। সিগারেট ফুঁকতে ফুঁকতে আবার সেই দুশ্চিন্তার শুরু। হঠাত তার মাথায় এলো এই যে এত বড় ব্যস্ততম সড়ক সেখানে একটাও সিগারেটের দোকান নেই। তার মত কত লোকের সিগারেট খেতে মন চাইলে কত দূর অবধি হেঁটে যেতে হয়। তাই এইখানেই একটা সিগারেটের দোকান দিতে পারলে কেমন হয়?
যে ভাবা সেই কাজ পরদিনই চাকরি ছেড়ে নিজের সমস্ত সঞ্চয়কে নিয়ে ছোট্ট, খুব ছোট্ট একটি সিগারেটের দোকান দিলো সেই ব্যস্ততম সড়ক- বন্ড স্ট্রীটে। অল্প কছুদিনের মধ্যেই অভাবনীয় সাড়া পেতে লাগলো ‘আলফ্রেড ডানহিল’ এর সিগারেটের দোকান। এবার সে ব্যবসাকে নিয়ে ভাবতে শুরু করলো, লক্ষ্য করলো তার দোকানের বেশ কিছু ক্রেতা আসেন সড়কের উল্টোপাশ থেকে। কিছুদিন পরেই ক্রেতাদের সুবিধা বিচার করে ‘আলফ্রেড ডানহিল’ সড়কের উল্টোপাশে আরেকটি দোকান খুলে বসলো। এভাবে সেই দুটি দোকান অল্প কিছুদিনের মধ্যেই চারটিতে পরিনত হলো এবং পরবর্তী তিন বছরে সেই চারটি দোকান ষোলোটিতে পরিনত হলো।
এবারে নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন আমি কার গল্প বলছিলাম। লাল সাদা প্যাকেটের সেই ডানহিল সিগারেটের গল্প। যাইহোক, এর পর ‘আলফ্রেড ডানহিল কোম্পানী’ হয়ে উঠলো ইংল্যান্ডের সব চেয়ে বড় তামাকের ব্যবসায়ী। সর্ব প্রথম মেশিন রোল সিগারেট এনে বাজারে হৈ চৈ ফেলে দিলেন এর পর পরই তিনি নিজের ব্র্যান্ড নিয়ে এলেন বাজারে - ‘ডানহিল’ সিগারেট। পাঁচ বছরে হয়ে গেলেন কোটিপতি। নিজের ফ্যাক্টরিতে তামাকের সাপ্লাই পর্যাপ্ত ও বাধাহীন রাখার জন্যে তিনি আমেরিকার বেশ কিছু তামাক চাষীর সাথে বার্ষিক আমদানী চুক্তি করলেন।
ক্রয় চুক্তি পাকাপাকি করার জন্যে ডানহিল আমেরিকা চলে গেলেন এবং তার ক্রয় চুক্তি অনুষ্ঠান হয়ে উঠলো বিশাল মিডিয়া সার্কাস। সেই অনুষ্ঠানে সেনেটর থেকে গভর্নর পর্যন্ত সবাই উপস্থিত ছিলেন। মজার ঘটনা হলো, সত্যি সত্যি ক্রয় চুক্তি নিষ্পন্ন হবার পর এলো স্বাক্ষর করার পালা। স্বাক্ষর এর স্থানে ডানহিল দিলো বুড়ো আঙ্গুলের ছাপ। লেখাপড়া তো করেন নি তাই এছাড়া তার উপায় ছিলোনা। এতে গভর্নর তাঁকে ছোটো করার সুযোগ পেয়ে বললেন ‘বাহ, লেখাপড়া না জেনেই এত বড় ব্যবসা সামলাচ্ছেন না জানি লেখাপড়া বেশী জানলে কি করতেন!’
ডানহিল শুধু ছোট্ট উত্তর করলেন, ‘লেখাপড়া বেশী জানলে আমি চার্চের ফ্লোরই পরিষ্কার করতাম’।

collected from-https://www.facebook.com/groups/uddokta/permalink/768557863224322/

সোমবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৩

A Facebook Alum Builds an Intelligent Sales Platform /একটি ফেসবুক অ্যালবামে একটি বুদ্ধিমান বিক্রয় প্ল্যাটফর্ম তৈরী করে

http://www.entrepreneur.com/article/227833

Most people start their professional lives working fast-food jobs or retail gigs, but Darian Shirazi isn't most people. 

অধিকাংশ মানুষ ফাস্ট ফুড জব বা খুচরা যোগাড় কাজ তাদের পেশাদারী জীবন শুরু, কিন্তু Darian Shirazi অধিকাংশ মানুষের মত নয় । ১৫ বছর বযস

 At age 15 he began purchasing computer components in bulk from Asia and marketing them on eBay, generating such impressive sales that the online auction giant soon offered him an engineering internship. After two summers at eBay, Shirazi began exploring other opportunities, and in 2005 he became the first-ever intern hired at Facebook, then a fledgling startup whose dozen staffers worked close to Shirazi's family home in Palo Alto, Calif.
"They were guys not that much older than me, working on something I thought was cool," Shirazi recalls, admitting, "It wasn't clear to me if it would become anything big or not."
Shirazi exited Facebook after two years--his parents insisted he leave to attend college--but by that time it was clear big things were in store not only for the social network but for him, too. He dropped out of the University of California, Berkeley, within a year, and after traveling the globe returned to Silicon Valley in 2008 to launch San Francisco-based Fwix, a hyperlocal news aggregator that trawled the web to curate a range of business data encompassing everything from license registrations and Yelp reviews to Facebook likes, Twitter posts and Foursquare check-ins.
Fwix built its business by licensing information to media publishers and software developers, but Google had bigger things in mind. "Google wanted to prioritize our local business data for lead generation," says Shirazi, now 26. "I thought, That sounds like a great idea. Why don't we build our own business?" So he turned down Google's $35 million acquisition offer and in spring 2012 rebranded Fwix as Radius Intelligence, leveraging his massive local database to provide real-time information optimized for sales teams targeting the U.S. small-business market.
"It was easy to walk away from [the Google offer]. I got lucky on Facebook, and it helps when you've had a win and don't have to worry about money," Shirazi says. "A lot of people haven't been lucky enough to be part of something like Facebook. But I also believe that if you're in a position to build something big, you have to make that happen."
Darian Shirazi of Radius Intelligence
Darian Shirazi of Radius Intelligence
Shirazi is definitely thinking big with Radius, stating that he aims to build a sales intelligence platform for the SMB segment on par with Dun & Bradstreet's information services for the enterprise market. Radius offers sales teams insight into more than 26 million small businesses in the U.S., compiling data from disparate web sources to identify opportunities across new and established companies, as well as delivering advanced lead-generation tools as stand-alone SaaS offerings or integrated with Salesforce.com services.
Radius clients can assemble lead lists based on filters that include location, vertical, web activity, consumer reviews and ratings, ad spending, revenue and company size. They can also access up-to-date business information like phone numbers, e-mail addresses, owner names, employee head count and revenue. Pricing starts at $99 per month.
"What we're offering is a huge opportunity for marketing and selling organizations to become more efficient by letting them target businesses that need their products and services," says Shirazi, who serves as Radius' CEO. "We're also helping improve relationships with existing customers and reduce call spam. To me, we're building a business, but we're also doing a lot of good."
Earlier this year Radius wrapped a $12.4 million funding round led by American Express. Shirazi, who would not disclose revenue, plans to triple the firm's sales force by the end of 2013, concurrently exploring new and more effective methods for crunching data and developing, filtering and categorizing leads.
"I love building companies, and I love building ideas," Shirazi says. "It's what I want to continue doing for the rest of my life."


Read more: http://www.entrepreneur.com/article/227833#ixzz2eODXOn4m

শনিবার, ১৩ জুলাই, ২০১৩

১০০ তে শূন্য পেলাম: হুমায়ূন আহমেদ

Lআগামী ১৯ জুলাই বাংলাদেশের জনপ্রিয়তম কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী। যুক্তরাষ্ট্রে পিএইচডি করার সময়ের ঘটনা তিনি লিখেছেন হোটেল গ্রেভার ইন-এ। ওই লেখার নির্বাচিত কিছু অংশ ‘স্বপ্ন নিয়ে’র পাঠকদের জন্য।

আমি আমেরিকায় এসেছি পড়াশোনা করতে। নর্থ ডাকোটা স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে কেমিস্ট্রির মতো রসকষহীন একটি বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রি নিতে হবে। কত দীর্ঘ দিবস, দীর্ঘ রজনী কেটে যাবে। ল্যাবরেটরিতে, পাঠ্যবইয়ের গোলকধাঁধায়। মনে হলেই হূৎপিণ্ডের টিকটিক খানিকটা হলেও শ্লথ হয়ে যায়।
নর্থ ডাকোটা ইউনিভার্সিটির ক্লাসগুলো যেখানে হয়, তার নাম ডানবার হল। ডানবার হলের ৩৩ নম্বর কক্ষে ক্লাস শুরু হলো। কোয়ান্টাম মেকানিক্সের ক্লাস। কোর্স নম্বর ৫২৯।
কোর্স নম্বরগুলো সম্পর্কে সামান্য ধারণা দিয়ে নিই। টু হানড্রেড লেভেলের কোর্স হচ্ছে আন্ডার-গ্র্যাজুয়েটের নিচের দিকের ছাত্রদের জন্য। থ্রি হানড্রেড লেভেল হচ্ছে আন্ডার-গ্র্যাজুয়েটের ওপরের দিকের ছাত্রদের জন্য। ফোর হানড্রেড এবং ফাইভ হানড্রেড লেভেল হচ্ছে গ্র্যাজুয়েট লেভেল।
ফাইভ হানড্রেড লেভেলের যে কোর্সটি আমি নিলাম, সে সম্পর্কে আমার তেমন কোনো ধারণা ছিল না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অল্প কিছু কোয়ান্টাম মেকানিক্স পড়েছি। একেবারে কিছুই যে জানি না, তাও নয়। তবে এই বিষয়ে আমার বিদ্যা খুবই ভাসাভাসা। জলের ওপর ওড়াউড়ি, জল স্পর্শ করা নয়।
একাডেমিক বিষয়ে নিজের মেধা এবং বুদ্ধির ওপর আমার আস্থাও ছিল সীমাহীন। রসায়নের একটি বিষয় আমি পড়ে বুঝতে পারব না, তা হতেই পারে না।
আমাদের কোর্স কো-অর্ডিনেটর আমাকে বললেন, ফাইভ হানড্রেড লেভেলের এই কোর্সটি যে তুমি নিচ্ছ, ভুল করছ না তো? পারবে?
আমি বললাম, ইয়েস।
তখনো ইয়েস এবং নো-র বাইরে তেমন কিছু বলা রপ্ত হয়নি। কোর্স কো-অর্ডিনেটর বললেন, এই কোর্সে ঢোকার আগে কিন্তু ফোর হানড্রেড লেভেলের কোর্স শেষ করোনি। ভালো করে ভেবে দেখ, পারবে?
: ইয়েস।
কোর্স কো-অর্ডিনেটরের মুখ দেখে মনে হলো, তিনি আমার ইয়েস শুনেও বিশেষ ভরসা পাচ্ছেন না।
ক্লাস শুরু হলো। ছাত্রসংখ্যা পনেরো। বিদেশি বলতে আমি এবং ইন্ডিয়ান এক মেয়ে—কান্তা। ছাত্রদের মধ্যে একজন অন্ধ ছাত্রকে দেখে চমকে উঠলাম। সে তার ব্রেইলি টাইপ রাইটার নিয়ে এসেছে। ক্লাসে ঢুকেই সে বিনীত ভঙ্গিতে বলল, আমি বক্তৃতা টাইপ করব। খটখট শব্দ হবে, এ জন্য আমি ক্ষমা চাচ্ছি। আমি হতভম্ব। অন্ধ ছাত্ররা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে এটা আমি জানি। আমাদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েও কিছু অন্ধ ছাত্রছাত্রী আছে, তবে তাদের বিষয় হচ্ছে সাহিত্য, ইতিহাস, সমাজবিদ্যা বা দর্শন। কিন্তু থিওরিটিক্যাল কেমিস্ট্রি যে কেউ পড়তে আসে আমার জানা ছিল না।
আমাদের কোর্স টিচারের নাম মার্ক গর্ডন। কোয়ান্টাম মেকানিক্সের মস্তান লোক। থিওরিটিক্যাল কেমিস্ট্রির লোকজন তাঁর নাম শুনলে চোখ কপালে তুলে ফেলে। তাঁর খ্যাতি প্রবাদের পর্যায়ে চলে গেছে।
লোকটি অসম্ভব রোগা এবং তালগাছের মতো লম্বা। মুখভর্তি প্রকাণ্ড গোঁফ। ইউনিভার্সিটিতে আসেন ভালুকের মতো বড় একটা কুকুরকে সঙ্গে নিয়ে। তিনি যখন ক্লাসে যান, কুকুরটা তাঁর চেয়ারে পা তুলে বসে থাকে।
মার্ক গর্ডন ক্লাসে ঢুকলেন একটা টি-শার্ট গায়ে দিয়ে। সেই টি-শার্টে যা লেখা, তার বঙ্গানুবাদ হলো, সুন্দরী মেয়েরা আমাকে ভালোবাসা দাও!
ক্লাসে ঢুকেই সবার নামধাম জিজ্ঞেস করলেন। সবাই বসে বসে উত্তর দিল। একমাত্র আমি দাঁড়িয়ে জবাব দিলাম। মার্ক গর্ডন বিস্মিত হয়ে বললেন, তুমি দাঁড়িয়ে কথা বলছ কেন? বসে কথা বলতে কি তোমার অসুবিধা হয়?
আমি জবাব দেওয়ার আগেই কান্তা বলল, এটা হচ্ছে ভারতীয় ভদ্রতা।
মার্ক গর্ডন বললেন, হুমায়ূন তুমি কি ভারতীয়?
: না। আমি বাংলাদেশ থেকে এসেছি।
: ও আচ্ছা, আচ্ছা। বাংলাদেশ। বসো। এরপর থেকে বসে বসে কথা বলবে।
আমি বসলাম। মানুষটাকে ভালো লাগল এই কারণে যে সে শুদ্ধভাবে আমার নাম উচ্চারণ করেছে। অধিকাংশ আমেরিকান যা পারে না কিংবা শুদ্ধ উচ্চারণের চেষ্টা করে না। আমাকে যেসব নামে ডাকা হয় তার কয়েকটি হচ্ছে: হামায়ান, হিউমেন, হেমিন।
মার্ক গর্ডন লেকচার শুরু করলেন। ক্লাসের ওপর দিয়ে একটা ঝড় বয়ে গেল। বক্তৃতার শেষে তিনি বললেন, সহজ ব্যাপারগুলো নিয়ে আজ কথা বললাম, প্রথম ক্লাস তো তাই।
আমি মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়লাম। কিচ্ছু বুঝতে পারিনি। তিনি ব্যবহার করছেন গ্রুপ থিওরি, যে গ্রুপ থিওরির আমি কিছুই জানি না।
আমি আমার পাশে বসে থাকা আমেরিকান ছাত্রটিকে বললাম, তুমি কি কিছু বুঝতে পারলে?
সে বিস্মিত হয়ে বলল, কেন বুঝব না, এসব তো খুবই এলিমেন্টারি ব্যাপার। এক সপ্তাহ চলে গেল। ক্লাসে যাই, মার্ক গর্ডনের মুখের দিকে তাকিয়ে থাকি। কিচ্ছু বুঝতে পারি না। নিজের মেধা ও বুদ্ধির ওপর যে আস্থা ছিল তা ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে গেল। কোয়ান্টাম মেকানিক্সের প্রচুর বই জোগাড় করলাম। রাতদিন পড়ি। কোনো লাভ হয় না। এই জিনিস বোঝার জন্য ক্যালকুলাসের যে জ্ঞান দরকার তা আমার নেই। আমার ইনসমনিয়ার মতো হয়ে গেল। ঘুমুতে পারি না। গ্রেভার ইনের লবিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকি। মনে মনে বলি—কী সর্বনাশ!
দেখতে দেখতে মিড-টার্ম পরীক্ষা এসে গেল। পরীক্ষার পর পর যে লজ্জার সম্মুখীন হতে হবে তা ভেবে হাত-পা পেটের ভেতর ঢুকে যাওয়ার জোগাড় হলো। মার্ক গর্ডন যখন দেখবে বাংলাদেশের এই ছেলে পরীক্ষার খাতায় কিছুই লেখেনি, তখন তিনি কী ভাববেন? ডিপার্টমেন্টের চেয়ারম্যানই বা কী ভাববেন?
এই চেয়ারম্যানকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের সভাপতি প্রফেসর আলি নওয়াব আমার প্রসঙ্গে একটি চিঠিতে লিখেছেন—ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগ যে অল্পসংখ্যক অসাধারণ মেধাবী ছাত্র তৈরি করেছে, হুমায়ূন আহমেদ তাদের অন্যতম।
অসাধারণ মেধাবী ছাত্রটি যখন শূন্য পাবে, তখন কী হবে? রাতে ভয়াবহ দুঃস্বপ্ন দেখতে শুরু করলাম।
মিড-টার্ম পরীক্ষায় বসলাম। সব মিলিয়ে ১০টি প্রশ্ন।
এক ঘণ্টা সময়ে প্রতিটির উত্তর করতে হবে। আমি দেখলাম, একটি প্রশ্নের অংশবিশেষের উত্তর আমি জানি, আর কিছুই জানি না। অংশবিশেষের উত্তর লেখার কোনো মানে হয় না। আমি মাথা নিচু করে বসে রইলাম। এক ঘণ্টা পর সাদা খাতা জমা দিয়ে বের হয়ে এলাম।
পরদিন রেজাল্ট হলো। এ তো আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নয় যে ১৫টি খাতা দেখতে ১৫ মাস লাগবে।
তিনজন এ পেয়েছে। ছয়জন বি। বাকি সব সি। বাংলাদেশের হুমায়ূন আহমেদ পেয়েছে শূন্য। সবচেয়ে বেশি নম্বর পেয়েছে অন্ধ ছাত্রটি। [এ ছেলেটির নাম আমার মনে পড়ছে না। তার নামটা মনে রাখা উচিত ছিল।]
মার্ক গর্ডন আমাকে ডেকে পাঠালেন। বিস্মিত গলায় বললেন, ব্যাপারটা কী বলো তো?
আমি বললাম, কোয়ান্টাম মেকানিক্সে আমার কোনো ব্যাকগ্রাউন্ড ছিল না। এই হায়ার লেভেলের কোর্স আমি কিছুই বুঝতে পারছি না।
: বুঝতে পারছ না তাহলে ছেড়ে দিচ্ছ না কেন? ঝুলে থাকার মানে কী?
: আমি ছাড়তে চাই না।
: তুমি বোকামি করছ। তোমার গ্রেড যদি খারাপ হয়, যদি গড় গ্রেড সি চলে আসে, তাহলে তোমাকে বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে চলে যেতে হবে। গ্র্যাজুয়েট কোর্সের এই নিয়ম।
: এই নিয়ম আমি জানি।
: জেনেও তুমি এই কোর্সটা চালিয়ে যাবে?
: হ্যাঁ।
: তুমি খুবই নির্বোধের মতো কথা বলছ।
: হয়তো বলছি। কিন্তু আমি কোর্সটা ছাড়ব না।
: কারণটা বলো।
: একজন অন্ধ ছাত্র যদি এই কোর্সে সবচেয়ে বেশি নম্বর পেতে পারে, আমি পারব না কেন? আমার তো চোখ আছে।
তুমি আবারও নির্বোধের মতো কথা বলছ। সে অন্ধ হতে পারে, কিন্তু তার এই বিষয়ে চমৎকার ব্যাকগ্রাউন্ড আছে। সে আগের কোর্স সবগুলো করেছে। তুমি করোনি। তুমি আমার উপদেশ শোনো। এই কোর্স ছেড়ে দাও।
: না।
আমি ছাড়লাম না। নিজে নিজে অঙ্ক শিখলাম। গ্রুপ থিওরি শিখলাম, অপারেটর অ্যালজেব্রা শিখলাম। মানুষের অসাধ্য কিছু নেই এই প্রবাদটি সম্ভবত ভুল নয়। একসময় অবাক হয়ে লক্ষ করলাম কোয়ান্টাম মেকানিক্স বুঝতে শুরু করেছি।
ফাইনাল পরীক্ষায় যখন বসলাম, তখন আমি জানি আমাকে আটকানোর কোনো পথ নেই। পরীক্ষা হয়ে গেল। পরদিন মার্ক গর্ডন একটি চিঠি লিখে আমার মেইল বক্সে রেখে দিলেন। টাইপ করা একটা সংক্ষিপ্ত চিঠি, যার বিষয়বস্তু হচ্ছে:
—তুমি যদি আমার সঙ্গে থিওরিটিক্যাল কেমিস্ট্রিতে কাজ করো তাহলে আমি আনন্দিত হব এবং তোমার জন্য আমি একটি ফেলোশিপ ব্যবস্থা করে দেব। তোমাকে আর কষ্ট করে টিচিং অ্যাসিসটেন্টশিপ করতে হবে না।
একটি পরীক্ষা দিয়েই আমি এই বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিচিত হয়ে গেলাম।
পরীক্ষায় কত পেয়েছিলাম তা বলার লোভ সামলাতে পারছি না। পাঠক-পাঠিকারা আমার এই লোভ ক্ষমার চোখে দেখবেন বলে আশা করি। আমি পেয়েছিলাম ১০০ তে ১০০।
বর্তমানে আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের কোয়ান্টাম কেমিস্ট্রি পড়াই। ক্লাসের শুরুতে ছাত্রদের এই গল্পটি বলি। শ্রদ্ধা নিবেদন করি ওই অন্ধ ছাত্রটির প্রতি, যার কারণে আমার পক্ষে এই অসম্ভব সম্ভব হয়েছিল। [সংক্ষেপিত]
সূত্র: ডানবার হলের জীবন, হোটেল গ্রেভার ইন, কাকলী প্রকাশনী, আগস্ট ১৯৮৯।