সোমবার, ৫ আগস্ট, ২০১৩

এজেন্সি ও বাস্তবতা(পর্ব ৩ ) -বিশ্বাস এখানে ও সেখানে

৩ জুলাই ২০১২ জারমানীতে এসেছি মাএ তিনদিন হল আর এ বাসায় এসেছি আজ সকালে।রাস্তাৃঘাট এখনো ঠিকমত চিনিনা তাই ইচ্ছে থাকলেও বাইরে ঘুরা হয় নি,স্কুলআর বাসা এই করে গত তিনদিন কেটেছে ।নতুন ল্যাপটর কিনব তাই কষ্টকরে দেশ থেকে বোঝাবেয়ে পুরুনোটা আনি নি।তাই আপাতত শুয়ে বসে দিন কাটছে ।ব্লকের টাকা আসতেও কিছুদিন সময় লাগবে।আগামী মাসখানেকের মধ্যে আর ল্যাপটপ কেনা হচ্ছে না।সাথে করে নিয়ে আসা সিমফোনী মোবাইলে শুয়ে শুয়ে গানশুনছি। দরজায় কেউ একজন নক করায় উঠেগিয়ে দরজাখুলতেই এক হাই বলে হাত বাড়িয়ে তার পরিচয় দিল, সে আমার ই ফ্ল্যাটমেট ,মেডিকেলে পড়ছে ,আমার  সাথে পরিচিত হতে এসছে।কথাবলে খুবই ফ্রেন্ডলি মনে হল।যাবার সময় একটা কমিকস এর বই হাতে দিয়ে বলল ” ইম আর লারনিং ডয়েচ, হোপ ইউ কেন রিড দিস অলসো।” রাতে খাবার টেবিলে তার সাথে আবার দেখা হলো ।জানতে পারলাম সে আগস্টে বাংলাদেশ যাচ্ছে আইসিডিডিআর,বিতে একটা রিসারস  ওয়ারক এ ।আর সে জন্য সে এখন বাংলা ও শিখছে, কারন তাকে গ্রামের লোকজনের ইন্টারভিউ নিতে হবে।সাথে একজন দোভাষি থাকলেও সে চাচ্ছে নিজে কাজ নিজেই করতে।আর অনেকটা কাকতালিয় ভাবেই একজন বাংলাদেশি তার পাশের রুমে আসছে আর তার উপর আমি আইসিডিডিআর,বিতে জব করেছি  , এটা  যেমনটা তার জন্য আনন্দের অনেকটা আমার জন্য ও। কারন আমি জারমান শিখছি, আর সে বাংলা শিখছে। আর আমরা এখন থেকে প্রতিদিন একঘন্টা বাংলা আর জারমান চরচা করব। আমি ওকে বাংলা সেখাব আধঘন্টা, আর সে আমাকে আধঘন্টা জারমান সেখাবে। দুদিনেইতার সাথে ভাল একটা বন্ধুত্ব হয়ে গেছে। কথায় কথায় যখন সে জানতে পারল আমার ল্যাপটপ নেই আর কিনতে ও দেরি হবে,সাথে সাথে একমুহূরত চিন্তা না করে সে বলল আমারতো দুইটা ল্যাপটপ ,একটা তুমি ইচ্ছা করলেনিয়ে ইউজ করতে পার। অনেকটা অবাক হলাম তার এই ব্যবহারে। মনটা ভীষন খারাপ হয়ে গেল যখন জানতে পারলাম আগামী মাসে অন্য বাসায় চলে যেতে হবে।এ বাসাটা একমাসের জন্য আমার জন্য ভাড়া নেয়া হয়েছে।তো যথারীতি মাসশেষে বাসা বদলানোর সময় যতটানা খারাপ লেগেছে তার চেয়ে বেশি বিশ্মিত হয়েছি যখন আমার এক ফ্ল্যাটমেট তার গাড়ি নিয়ে ড্রপদিতে চাচ্ছে আর সেইযে বন্ধু তার ল্যাপটপ ফেরত দিতে গেলে সে বলে আমারতো এটা এখন লাগবে না তুমি সাথেকরে নিয়ে যাও।নতুন ল্যাপটপ কিনে তখন এটা দিয়ে যেও। তখন ভাবছি একমাস ও হয়নি তাদের সাথে পরিচয় অথচ কত আন্তরিকতা কতটা বিশ্বাস থাকলে বাবার কাছথেকে গিফটা পাওয়া ল্যাপটপটি অজানা অচেনা ছেলেকে দেওয়া যে কিনা অন্যআর এক বাসায় চলে যাচ্ছে। রাস্তাদিয়ে হাটছি আর ভাবছি তার আর আমার বিশ্বাস এর ব্যবধানের কথা।আমি ও তো বিশ্বাস করছিলাম।মন পরছে সেপ্টেম্বর ২০১১ এর কথা বেশি না ১১ মাস আগের কথা।বিএস এসবি এর অফিস থেকে মোটামুটি ১৩/ ১৪ লাখটাকা খরচ এর একটা হিসাবনিয়ে বেরিয়েছি। পকেট থেকে এজেন্সি এর লিস্টটাতে দেখলাম মতিঝিলেই আরও একটা এজেন্সি আছে।ভালকরে খেয়াল করে দেখি আরে একই বিল্ডিং এর দু ফ্লোর নিচের তলায় অফিস, কিন্তু সেখানে গিয়েদেখি বিএসএসএল এর মত তেমন কোন বড়সর রিসিপসনতো দুরের কথা সাইনবোরড ও নাই।ভিতরে ঢুকে জানতে চাইলে এককোনায় একটা টেবিলে বসা কেরানিগোছের লোক বলল্লতার বস যিনি একজন উকিল তিনি স্টুডেন্ট ভিসা প্রসেস করেন।তার আর তাদের অফিসের কন্ডিশন দেখে যততারাতারি এখান থেকে বেরোনো যায় তাই ভেবে পরে আসব বলে বের হলাম। এবার গন্তব্যস্থল রাজধানীর অভিজাত এলাকা ধানমন্ডির রাইফেল স্কয়ার সংলগ্ন আমবালা ইনন এর দোতলার ভিসা ওয়াল্ড ওয়াইড অফিস ।হয়নি।অফিসের বরণণাটা দিচ্ছি তারকারনটা পরে বলছি।ওদের অফিসে যেতে তাদের নিজস্ব আলাদা লিফট আছে যাদিয়ে যাবার পর লিফটের ঠিক সামনেই ই রিসিপসন।লিফট এর দরজা খুললেই দেখবেন ঠিক সামনর সুসজ্জিত একটা রিসিপসনএ দুজন সুন্দরি হাসিমুখে আপনারদিকে তাকিয়ে আছে আর অফিসরুমের চারদিকে সাজানো সোফায় অনেকেই বসে আছে যারা হয় আপনারই মত জালে আটকাতে এসেছে। সামনেই ই বিশাল এলসিডি টিভি চলছে। চারপাশের দেয়ালে সাজানো আছে ভিসার চেয়ারম্যানের বিশ্বর বিভিন্ন দেশের আকরষনীয় লোকেশনে, ইউনির সামনে তোলা ছবি, তারিখ ও লোকেশন সহ।তো ঢুকতেই রিসিপশনিসের প্রশ্ন আগে কারো চসাথে কথাবলেছিলাম কিনা তার মানে তাদের অনেকগুলো (শিকারী) কাউন্সিলর এর সাথে কথা হয়েছে কিনা। না উওরে সে একজনকে ফোন করে বলল নতুন (শিকার) স্টুডেন্ট ,পাঠাব? ফোন রেখে অপেখা করতে বলল। বসেবসে দেয়ালে টানানো ছবিগুলো দেখছি। সামনের শোকেজে রাখা বিভিন্ন এয়ারড ও ক্রেসড যাদের একটিতে লেখা only!member of German Bangladesh Businesses Association  । কিছুখন পরআমাদের ডাক পরতেই অফিসের ভিতরের দিকে আর একটা রিসিপসন আর ওয়েটিং এরিয়া পার হয়ে ছয় নাম্বার রুমে ঢুকলাম।বেশ সাজানো গোছানো একটা রুম। প্রতিটি দেয়ালে ঝুলছে ছবি। এখানে শুধু চেয়ারম্যানের ছবি না। যে কাউন্সলর এর রুমে ঢুকেছি তার ও ছবি ।বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের সাথে তোলা ছবি।পেছনের সেলফে রাখা ফাইলের সারি।দেয়ালের ই এক জায়গায় একটা প্লাস্টিক প্লেটে বড়বড় করে ”  ক্রয়সুএে এই বিল্ডিয়ের ২য় ও ৩য় তলার মালিক ভিসা ওয়াল্ড এর উকিল ,,,,,”  লেখাটা দেখে একটু অবাক হলেও পুরুনো একটা কথা মনে পরেগেল। বছর খানেক আগে একদিন আগের জব এর বস দুপুরে ফোন করে বলল মোতালেব প্লাজায় আসতে (সাধারনত তখন দুপুরে আমি ইউনিতে থাকতাম) বলল কি একটা কাজে এখানে এক অফিসে যাবেন সাথে আমাকেও নিয়ে যাবেন । দশমিনিট পর মোতালেব প্লাজার সেই অফিসে ঢুকেতো দেখি চমঙকার ডেকোরেশনে সাজানো অফিস। শুনেছি কয়েক কোটি টাকা খরচ করেছে এর পেছনে। কিছুদিন পর যখন ইউনিপে টু ইউ এর মালিক ১২০০ কোটি টাকা নয়ে পালালো। তখন বুঝলাম কোটিটাকার ডেকোরেশন এর অফিস আসলে পাবলিকের বিশ্বাসযোগ্যতা অরজন এর জন্য।এতখন ভিসা অফিসের বরননা দেবার নিশ্চয় বুঝেছেনা।
হায়রে বিশ্বাস।”কিছু কিছু মানুষ অন্যর অসহায়ত্ব দেখে তা দূর করার জন্য সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয় বিশ্বাস এর চিন্তা না করেই।,”
আর “কিছুকিছু মানুষ কৃতিম বিশ্বাস এর আবরনে অসহায় করে দিচ্ছে অনেককেই।”
নতুন বাসায় ঢুকে বাড়িওরার কাছ থেকে ওয়াইফাই এর পাসওয়ারড নিতেই আবার কৃতঙ্গচিওে মনে পড়েগেল বন্ধুটির কথা। চারমাস পর সে বাংলাদেশ থেক ফেরার পর তার লেপটপ ফেরতদেবার সময় তার একটি কথায় মনটা ভরে গেল।”আমি বাংলাদেশকে ভালবাসি”। বাঙালিদের সরলতা আমাকে মুঙ্দ করে।” এ সরলতার সুযোগের অপব্যবহার যে অনেকেই করছে তা আর তাকে বলা হয় নি।হয়ত কোনদিন বলা ও হবে না। (চলবে)

এজেন্সি – স্বপ্ন ও বাস্তবতা(পার্ট-২) – ফাঁদে পা দেয়া

সেপ্টেম্বর ২০১১। অফিসে বসে অলস সমফ কাটাচ্ছি।হা তের কাজ শেষ করেছি অনেক আগেই। তবুও নিয়ম রখা জন্য রাত দশটা পযন্ত থাকতে হবে কলিগ এর হাতে শিফ্ট হস্তান্তর করার জন্য। ফেসবুকে ও ভাল লাগছে না। বসে বসে ভাবছি ব্যাচেলর শেষ করেছি এক বছরের বেশি হয়ে গেল, আর গত তিনবছরে ব্র্যাক, বেঙ্গল ইন, আইসিডিডিআর, বি তিনটা চাকরির অভিঙ্গতা ও হয়ে গেল। জব করে ব্যচেলর শেষ করতে পেরেছি ,মাস্টারস ও পারব। গত সপ্তাহে বাবা বলতেছিল তার পেনশনের টাকাগুলোও ব্যাংকে পড়ে আছে। ইচ্ছে করলে আমি বাইরে গিয়ে ও মাস্টার্স করতে পারি। অস্টেলিয়া আর কানাডা এর কথা ভেবেছিলাম কিন্তু স্পন্সর এর বিশাল এমাউন্ট এর কথা শুনে সে আশা আর বেশি দূর এগোয় নি। কি করে কি করি,লন্ডনে পড়তে যাওয়া বন্ধু ও বড়ভাইদের অবস্থার কথা শুনে দেশ ছাড়ার ইচ্ছা উবে গেল।
লন্ডনের এক বড়ভাই বলল জার্মানির জন্য চেয্টা করতে। কিন্তু কি করে কি করবো। জার্মান এমব্যাসির ওয়েবসাইট ঘেটে মনভরার মত তেমন কোন ইনফরমেশন পেলাম না। তাহলে কি করা যায় ভাবতে না ফেসবুকে এলাকার এক ছোটভাই যে কিনা কানাডা, অষ্ট্রেলিয়ার জন্য চেষ্টা করছে এর মেসেজ, ”ভাই আগামী কাল ফ্রি আছেন? কয়েকটা এজেন্সিতে যাব অস্ট্রেলিয়ার ব্যাপারে কথা বলতে। বাবা যা এা বাড়ির জমিটা বিক্রি করে দিয়েছে। আপনিতো জামানির কথা ভাবতেছেন, তাহলে একসাথে কথা বলা যাবে।” কথায় আছে না যার মনে যা লাফিয়ে বেড়ায় তা। ওরসাথে টাইম ঠিক করে প্রথম আলো খুলে কয়েক পাতা উল্টাতেই চোখে পড়ল বিনা ”বেতনে জামানীতে পড়ুন। স্পট এডমিশন। জার্মান প্রতিনিধি এখন ঢাকায়। তার সাথে সরাসরি কথা বলতে এখনই ফোন করে আপনার সময় ঠিক করুন”। বড় বড় করে লেখা এডটা পড়েই ফোন দিতেই এসএসবিসিএল এর মিস্টার ফয়সাল ফোন রিসিব করেই তাদের প্রতিনিধির সাথে কথা বলার জন্য সময় আর তাদের অফিসের ঠিকানা দিল। পত্রিকার বাকি পাতাগুলো থেকে বিএসবি, ভিসা ওয়ার্ল্ড সহ বিনাবেতনে জার্মানিতে পড়ার আরো কয়েকটা এজেন্সির খোঁজ পেলাম।
ভাবলাম, সবার কাছ থেকে ইনফরমেশন নিয়ে বুঝতে পারবো আসল ব্যাপারটা কি। আর যেহেতু খরচ ও একটা বড় ব্যাপার, তাদের কাছ থেকে খরচের একটা আইডিয়া তো পাওয়া যাবে। এসএসবিসিএল কিছু কথা বলে নেয়া ভাল। আমি যতদূর পেরেছি,এজেন্সির মাধ্যমে যত এসেছে তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি স্টুডেন্ট এসেসছে এসএসবিসিএল মাধ্যমে। আর এসএসবিসিএল এর ভিসাও পায় নাকি বেশি। কারনটা যদিও বলা হয় যে এসএসবিসিএল এর স্টুডেন্টরা বাংলাদেশ থেকে জার্মান এ১ কোর্সটা করে, তার পর ভিসা ইন্টার্ভিও দেয়া। আর এই কোর্সটার ক্লাস করানোর জন্য আগে জার্মানি থেকে টিচার আসত। কিন্তু এখন আর জার্মানি থেকে টিচার নেয়া হয় না। যতদূর শুনেছি (সত্যিটা যাচাই করার সুযোগ হয়নি) এখন ঢাকার গোয়েথে ইন্সটিটিউট এর কোন এক টিচার ক্লাস নেয়। বলে রাখা ভাল গোয়েথে ইন্সটিটিউশনের কিছু টিচার আবার জার্মান এমব্যাসির এ জব ও করে। আর ঐ টিচারও তাদের একজন। এখন অনেক ল্যাঙ্গুয়েজ স্টুডেন্টও তাই ভিসা পাচ্ছে । যাই হোক পরেরদিন সকালে রওনা দিলাম ফাঁদে পা দেবার উদ্দেশে। প্রথম গন্তব্য রাজধানীর কেন্দ্রস্থল মতিঝিলস্ত জীবন বীমা ভবন এ এসএসবিসিএল অফিস যেখানে একজন জার্মান থেকে আগত ইউরো এশিয়া নামক ল্যাঙ্গুয়েজ স্কুলের প্রতিনিধি বসে আছেন। আমাদেরকে তার মূল্যবান পরামর্শ দিয়ে এজেন্সি এর ফাঁদে দ্রুত আটকাতে।
যাই হোক বেলা এগারটার আগেই মতিঝিলের সুউচ্চ বিল্ডিয়ের সপ্তম তলার সুসজ্জিত বিশাল অফিসে পৌছে রিসিপশনে যেতেই তাদের দেয়া কাগজে নাম, ফোন নাম্বার, কোন দেশে পড়তে যেতে চাই তা লিখে অপেক্ষা করছি জার্মান প্রতিনিধির সাথে দেখা করার জন্য। যেহেতু দেশের প্রথম সারির পত্রিকায় এড দিয়েছে, গত কয়েকদিন তাই আমার মত অনেকেই এসেছে জার্মান থেকে আগত এডমিশন প্রতিনিধির সাথে কথা বলে তার পরামর্শ নিতে। তো কিছুক্ষন পর আমার সাথে আরও কয়েকজনের ডাক পড়ল ভিতরে যেতে। পরিচয় পর্ব শেষে জানতে পারলাম আসলে যার সাথে কথাবলছি সে নিজেও জার্মানিতে মাস্টার্স করে এখন সেখানে জব করছে। সেও আমাদের মত অন্য দেশ থেকে গিয়েছে। একে একে সবার কাছেই জানতে চাইল কেন এবং কি জন্য জার্মানিতে যেতে চায়। সবার কথা শুনে সে একে একে পরামর্শ দিচ্ছে, যার সার-সঙ্খেপ এমনঃ জার্মান বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে টাকা পয়সা লাগে না, শুধু এডমিনিস্ট্রেশন ফি দিতে হয়, তাও প্রতি সেমিয্টারে একবার। কিন্তু শর্ত হচ্ছে, জার্মান ভাষায় পড়তে হবে, মানে জার্মান ভাষা কোর্স করে বিশ্ববিদ্যালয়েতে যেতে হবে। আর এ কোর্স ব্যাচলর এর জন্য ৬ মাস, মাস্টার্স এর জন্য ৯ মাস।
আর বিস্তারিত বর্ননা মিস্টার ফয়সাল দিলেন যার সার-সঙ্খেপ অনেকটা এমনঃ ভাষা কোর্স এর জন্য প্রায় ৬৫০০ ইওরো আর তাদের প্রসেসিং ফি ৫০০০০ টাকা। আর বাংলাদেশে এ১ কোর্স করে তারপর ভিসা ইন্টার্ভিউ দিতে হবে। সবকিছু ওকে হলে, তাদের ফিস ৫০০০০ টাকা দিতে হবে। কিন্তু তাদের কে শুরুতে ১,৫ লাখ টাকা দিয়ে এ১ কোরস শুরু করবে। কোর্স শেযে ভিসা ইন্টার্ভিউ দিবে, ভিসা পেলে ব্লক থেকে ওদের ভাষা কোর্স ফি দিতে হবে। সব হিসাব নিকাশ করে দেখলাম প্রায় ১৩ খেকে ১৪ লাখ টাকার ব্যাপার যা আমার বাবার একাউন্টেও নাই।
যাক একটা আইডিয়াতো পেলাম। বিনামূল্যে পরামর্শ আর খরচের হিসাব সম্বলিত কাগজ হাতে নিয়ে যাচ্ছি আর এক এজেন্সি ভিসা ওয়াল্ড ওয়াইড এর দিকে। মনে মনে নিজের আর বাপের টাকার হিসাব মেলাচ্ছি। ভিসা ওয়ার্ল্ড এর অভিঙ্গতার বর্ননা আজ আর দিব না। আশা করি আগামী লেখায় তা পাবেন। (চলবে…)

এজেন্সি, কিছু স্বপ্ন ও বাস্তবতা

মোবাইল এর ভাইব্রেশন এর হালকা ঝাকুনিতে ঘুমটা ভাঙতেই ভাবছি আজ এত তাড়াতাড়ি সকাল হয়ে গেল। তখন মনে পড়ল গত রাতে ফোনের কথা। কোনভাবেই যখন বান্ধবিকে কিছুতেই শান্তনা দিয়ে তার কান্না থামাতে পারছিলাম না তখন শেষমেষ তার দেয়া শর্ত ল্যাঙ্গগুয়েজ কোর্স শেষে দেশে ফিরে যাবো এতে রাজি হলাম। আর তার পরই চোখের সামনে ভেসে আসছিল অনেকগুলো মুখ আর কিছু প্রশ্ন। সরকারি চাকুরি থেকে অবসরে যাবার পরও যিনি সংসাবের হাল ধরার জন্য আবার ফসলের জমিতে নেমেছেন আর বিনা প্রশ্নে আমাকে তার সারা জীবনের সঞ্চয়ে পেনশনের সবকটা টাকা দিয়েছেন সেই প্রিয় বাবার মুখ।অক্রফাম  জিবির(ওয়াল্ডের নাম্বার ৩ NGO) এর চাকরি ছেড়ে জামানীতে আসব কিনা আর আমি চলে আসলে সংসার চলবে কি করে এই দোটানায় ভুগছিলাম যখন, বাবা তখন আশা দিয়ে বলেছিল আমি আছি না। অনার্স পড়ুয়া ছোট বোনের বিয়ে দিতে হবে। মামা খালাদের কাছ থেকে যে টাকা ধার করেছি তাওতো দেয়া হয় নি। আর দেশে ও তো আমার জন্য কেউ চাকরি নিয়ে বসে আছে না। প্রশ্নগুলো উওর ভোর পযন্ত খুঁজতে খুঁজতে ঘুমিয়ে পড়েছি।
মোবাইলটা আবার কেঁপে উঠতেই চেয়ে দেখি মামার কল। গতকাল ভিসা এক্সটেন্ড করার পরই মামাকে বলেছিলাম ওনার টাকাটা ফেরত দিব। গত প্রায় দেড় বছর ধরে ওনার ব্যবসার পুঁজির টাকাগুলো আমার কাছে। টাকাটা আজই পাঠাতে হবে। ৪ মাস হয়ে গেল জামার্নিতে এসেছি। ভাল জার্মান জানি না, তাই জব ও পাচ্ছিনা। একে একে সবার টাকাই ফেরত দিতে হবে। তার পর চলবে কি করে? এর রকম হাজারো প্রশ্ন আর সমস্যার মধ্যেই পার করে ফেলেছি প্রায় ৯ টি মাস। অথচ কত স্বপ্ন ই না ছিল।
স্বপ্ন খুব ছোট একটা শব্দ কিন্তু তার ব্যাপকতা এত বিস্তৃত যার প্রভাব ব্যক্তি জীবনের সিমানা ছাড়িয়ে পরিবার এমনকি সমাজে ও পরে। স( সাফল্য), ব,( ব্যথতা),প( পরিশ্রম),  ন( নির্ভরতা ) যাদের সমন্বয়ে স্বপ্ন গঠিত। এমন মাানুষ খুঁজে পাওয়া দায়, যে স্বপ্ন দেখে না। স্বপ্ন মানুষকে বাচিঁয়ে রাখে। মানুষ তার স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্যই কাজ করে যায়।আর এই স্বপ্ন যখন সত্যি হয় তখনই তা হয় সফলতা, আর  বাস্তবায়িত না হলে ব্যার্থতা।
…………………..            …………………………..
               Group image 22012_09_08_18_5_b
……………………… ……………………………..
প্রথম ছবি টি ৮ সেপ্টেম্বর ২০১২ দৈনিক প্রথম আলোর ১৮ পেজ এ আর পরের ছবি টি ১১ জানুয়ারী ২০১৩ র ১৯ নম্বর পৃষ্ঠায় ছাপা হয় । যেখানে দেখানো হয়েছে ২২ জন ও ২১ জন জার্মানীর ভিসা পেয়েছে। তারা জার্মানীতে গিয়ে প্রথমে জার্মান ভাষা শিখবে কেউ ২৬ সপ্তাহ আর কেউ ৩৬ সপ্তাহ ভাষা কোর্স শেযে  ইউনিভার্সিটি তে যাবে।ব্যাচেলর অথবা মাস্টাস পড়বে ফ্রি তে। সেপ্টেম্বর ২০১২ থেকে ফেব্রুয়ারী ২০১৩ এই কদিনে তাদের লাইফের কতটা পরিবর্তন হয়েছে তা নিয়ে হয়ত নতুন কোন এড হবে না। কেউ জানতেই পারবে না তাদের স্বপ্ন বাস্তবায়ন এর পথে তারা কতটা এগিয়েছে তার খবর। কেমন আছে তারা? কি করে কাটছে তাদের জীবন।  তাদের সবার বর্তমান অবস্তা না জানলে ও ২৫ জনের অবস্থা আপনাদের জানাতে চাই।যাদের নিয়ে একটি সার্ভে করি আমরা। যাতে উঠে আসে তাদের বর্তমান অবস্হার কথা। কিছু স্বপ্নের সূচনা থেকে অপমৃত্যুর ধারাবাহিক বর্ণনা তুলে ধরব আপনাদের সামন।বিবেকবান মানুষ হয়ে ও মূর্খের মত আচরন ভবিষ্যতে আর যেন কেউ না করে তার জন্যই এই লেখা। শুধুমাএ একটু সচেতনতা আর সঠিক দিক নিদেশনার অভাবে আমাদের সমাজের সহজসরল মানুযগুলো কিভাবে ফাঁদে পা দিয়ে হাসতে হাসতে নিস্ব হচ্ছে আর অনিশ্চয়তার দিকে এগিয়ে যায় আর তাদের সপ্ন ভঙ্গের করুন কাহিনী ধারাবাহিক ভাবে তুলে ধরবো আপনাদের সামনে। 
কিন্তু কেন গিয়েছিলেন এজেন্সিতে?
এই প্রশ্নটি করা হয়েছিল সবাইকে। প্রশ্নের উওরে ৩৩% বলেছেন “তারা ভেবেছিল ভিসা ওয়ার্ল্ড ওয়াইড বিশস্ত, নিভরযোগ্য, ভিসার ব্যবস্তা করে দিতে পারবে । বাংলাদেশের নাম করা পএিকায় পূর্বের ভিসা প্রাপ্তদের ছবি দিয়ে নিয়মিত এড দিলে যে কেউ বিশ্বাস করাটাই স্বাভাবিক আর এই বিশ্বাসের সুযোগ কে কাজে লাগিয়ে ফাঁদে ফেলে কৌশলে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা ।আর ভিসা তো পাচ্ছেই কিন্তু তার জন্য যে কি মূল্য দিতে হয় আর পরবর্তী তে দিতে হবে, তাতো আর কেউ জানবে না বা জানে না।
সময় এর অভাবে নিজেরা প্রসেস করতে পারে নি ২০% বলেছে এই কথা বলেছে।অথচ যে সময় ভিসা ওয়ার্ল্ড অফিসের রিসিপশন আর কাউন্সিলর এর রুমে বসে পার করেছে সে সময়ে জার্মানী চলে আসা যায়। আর যথাযথ জার্মানির ব্যাপারে না জানার কারনে এজেন্সির কাছে গিয়েছে ২৩% ।
Why did u go to agency
.
আসলে উপরের সব কটাই খোঁড়া যুক্তি। নেট এ বসে খুঁজব, মেইল করব , টাইম টু টাইম ফলোআপ করবো। কাগজ আর টাকা দিলেই জার্মানি যাওয়া গেলে। কে করে এত ঝামেলা। আর এজেন্সি শুরু তে এমন করে বলে যেন জার্মানি তো মাত্র ২-৩ মাসের ব্যাপার। কাগজ জমা দাও আর টাকা রেডি করে এম্বাসিতে গেলেই হল। ভিসা তো হবেই। আগে কত জনই তো পেল। ১২ ইয়ার স্টাডি গ্যাপ নিয়েও ভিসা পাইসে আর কত খারাপ রেজাল্ট নিযেও ভিসা পাইসে।ভিসা তো হবেই , আর না হলে প্রব্ললেম নাই, ল্যাঙ্গুয়েজ কোর্স এর টাকা তো ফেরত আসবেই। আর ভিসা এর পর সার্ভিস চার্জ । তা ও মাত্র ১৫ হাজার টাকা। তা হলে কে করে ঝামেলা। মাত্র ১৫ হাজার টাকা দিয়ে যদি সব ঝামেলা না করে ই ভিসা পাওযা যায় তা হলে কে করে ঝামেলা। অথচ পরে এজেন্সির ওরা বলছে আর সব কাজ নিজেই করছে মাঝখান দিয়ে এজেন্সিকে এত টাকা দিয়েছ।
সব মিলিয়ে কত টাকার মত খরচ হয়েছে?
আসলে খরচ এর ব্যাপারটা সবাই প্রথমে চিন্তা করে।আর উপরের এডটা একটু খেয়াল করে দেখলে বুঝবেন বলা হয়েছে মাত্র ৩০০০ হাজার ইউরো এর ভাষা কোর্স খরচ। কিন্তু তার সাথে যে আরও কত খরচ যোগ হবে তা বুঝা যায় পরবতীতে। একজন ছাত্র জামানীতে ১ বছর থাকা খাওয়া বাবদ খরচ (৮০০০ ইউরো জার্মান সরকারের হিসাব অনুযায়ী) হয় তার চেয়ে ও বেশি টাকা খরচ করে প্রায় দশ লাখ টাকা এর চেয়ে বেশি খরচ করেছে এই ২৫ জনের ১১ জন। ৯ জনের ৫ লাখ টাকার বেশি খরচ হয়েছে।
.
Money spend
যদিও শুরুতে ভিসা ওয়ার্ল্ড অফিস থেকে বলেছিল ৩-৪ লাখ টাকার মধ্যে বিমান ভাড়া সহ হয়ে যাবে। আসলে এটা তাদের একটা ট্রিক। বিস্তারিত বর্ননা পরে আসবে। তবে এত টাকা কেন লাগবে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছেঃ
জার্মান কোর্স ফি ২৪০০ ইউর. (ব্যাচলর) , ৩৬০০ ইউরো (মাস্টার্স)
বাসা  ১০৫০ তিন মাস এর জন্য
সার্টিফিকেট প্রেরন=৩৫০০ Bdt
কোর্স ফি পাঠান ব্যাংক ফি = ৩০০০ ইউরো
ইন্সিউরেন্স ফি ৩০০ ইউরো
 University+ language course enrolment fees= ২৫০ ইউরো
.
Fees
.
সবচেয়ে মজার ব্যাপার হচ্ছে সকল স্টুডেন্ট দের কাছ থেকেই তাদের ssc, hsc certificate, mark-sheet আর কাগজ পাঠাতে চার্জ নিচ্ছে ৩৫০০ টাকা কিন্তু তারা এক সাথে কিন্তু অনেকের ডকুমেন্ট পাঠাচ্ছে। সবচেয়ে কষ্টের ব্যাপার সবার কাছ থেকে ২৫০ ইউরো নিচ্ছে university enrolment fee হিসাবে কিন্তু সবার তো কন্ডিশনাল অফার লেটার। আবার অনেককেই যে অফার লেটার দেয়া হযেছে তা আসলে শুধুমাত্র এমবেসী তে ভিসা ইন্টারভিউ এর জন্য।একটা নতুন স্টুডেন্ট যখন ভিসা অফিসে তথ্যের জন্য যায় সবাই যখন টাকার ব্যাপারে জানতে চায় তার সার-সংক্ষেপ হচ্ছে এমন ভিসা এর আগে tuition fees এর অর্ধেক,ডকুমেন্ট সেন্ড,  university enrolment বাবদ ২৮০০০০ টাকা শুরুতে খরচ হবে। আর বিমান ভাড়াসহ সবমিলিয়ে ৪ থেকে ৪.৫ লাখ টাকা লাগবে।আর নিজের একাউন্টে ৭৯০৮ ইউরো ব্লক করে রাখতে হবে যা কিনা ভিসা হবার পর তোলা যাবে। শতকরা ৯৯.৯৯% স্টুডেন্ট নাকি ব্লক ভেঙ্গে আসে ভিসা ওয়ার্ল্ড এর মালিক আমাকে এ কথা বলে তাদের এই কথায় বিশ্বাস করেই অনেকে ধার করে আর ভিসা পেয়ে ব্লক ভেঙ্গে ফেলে। কিন্তু এখানে এসে যখন সমস্যায় পরে তখন আসলে কিছু করার থাকে না। এখানে এই সমস্যায় পড়ে ২ জন সমাধান না করতে পেরে তাদের অভিভাব পাঠায় আবার Agency এর কাছে আর তাদের suggestion ব্যাঙ্ক কে কিছু টাকা বেশি দিয়ে তার পর টাকা এনেছে। কিন্তু টাকা আনতে হয়েছে, যা  Agency Hide করেছে।
.
Why did u go to agency
.
আপনি এজেন্সির সার্ভিস কে আপনি কি ভাবে মূল্যায়ন করবেনঃ
৫৬% বলেছে খুবই খারাপ। আর মাত্র এক জন বলেছে ভাল।আগেই বলেছি, সবাই ভেবেছিল টাকা আর পেপারস দিলেই ঝামেলা শেষ। যা করার এজেন্সিই করবে,সব কিছু ঠিক করে দিবে তারা। আসলে কি তা হযেছে? পরে দেখা গেছে যে সব কাজ নিজেকেই করতে হচ্ছে। ওরা খালি বলছে এইটা কর তার পর এইটা কর। অবশ্য ঠিকই আছে, তারা তো কন্সাল্টেন্সি ফার্ম। মানুষকে বোকা বানিয়ে কি করে টাকা নেয়া যায় তা তারা ভাল করে জানে। আর জার্মানীতে আসার পরে যাতে কেউ ঝামেলা না করতে পারে, তাই আশার আগেয়ই একটা পেপার এ সাইন করিয়ে নেয়, যেখানে লেখা থাকে ভিসা ওয়ার্ল্ড এর বিরুদ্ধে তাদের কোন অভিযোগ নাই। আর স্টুডেন্টরা তো ভিসা পেয়েই খুশি, তাই তারও সানন্দে সাইন করে আসে।
.
Reliability
.
নতুনদের জন্য আপনাদের পরামর্শ কি যারা জার্মানী যেতে চায়ঃ
এজেন্সি তে যাবার কথা বলেছে মাত্র এক জন। ১৭ জন বলেছে দয়া করে কেউ এজেন্সি তে যাবেন না ।এত ঝামেলা পোহানোর পর ও কাউকে এজেন্সিতে যাবার পরামর্শ দেয়া কি যায়? তার পরও যদি কারো মনে হয় ইচ্ছা করে প্রতারিত হতে, তাহলে যেতে পারেন। ২০ জন বলেছে নিজে নিজে চেষ্টা করেন। আর ১১ জন বলেছে BSAAG এর সাহায্য নিতে।
Suggestion for new
.
সবাই এসেছে  জার্মান কোর্স এর পর bachelor or masters এর কন্ডিশনাল অফার লেটার নিয়ে। ১১ জন ২৬ সপ্তাহের ল্যানগুয়েজ কোর্স(B1) শেষে Studienkolleg or bache course এ যাবে আর ৬ জন ৩৬ সপ্তাহের ল্যানগুয়েজ কোর্স(বি২) শেযে Test DAF or DSH দিয়ে মাস্টার্স করার স্বপ্ন নিয়ে। কিন্তু কেউই B2 এ যেতে পারে নি। একজন যে গিয়েছিল সে ভালভাবে B1 শেয করার পর Studienkolleg test দিয়ে চান্স পায় নি। আর অনেকেই একই কোর্স ২/৩ বার করছে।
কিন্তু কেন এই অবস্থা?তার পেছনের কারনগুলো খুঁজলে পাওয়া যায় যে জার্মানীতে জীবন যে এত কঠিন হবে তা তারা জানত ই না। এজেন্সি বাসা ঠিক করে দিয়াছে ৩ মাসের জন্য তাও ভাড়া মাসে ৩৫০ ইউরো করে।আসলে ভাড়া ৩০০ ইউরো(বাড়িওলা জানায়), স্কুল ৫০ ইউরো করে কমিশন নিচ্ছে। তিন মাস পর তো আর বাসা নাই ।ল্যানগুয়েজ স্টুডেন্টকে কেউ বাসা ভাড়া দিতে চায় ন। আর স্কুল থেকে নিলে, ৩৫০ ইউরো মাসে দিতে হবে।
Correct info
মজার ব্যাপার হল, ল্যাঙ্গুয়েজ স্টুডেন্টদের যে কাজ করার অনুমতি নেই, তা কেউ জানেই না।বরং তাদের কয়েক জনে জন্য জব রেডি আছে, এজেন্সি এমনও বলেছে অনেককে। ৬০% কে বলেছে যে তারা কাজ করতে পারে। আর তা দিয়ে খরচ ও চলবে। কিন্তু এখানে এসে বাস্তবতা তাদের কথার সাথে মিলছে না।
Work permit
বাংলাদেশ থাকে আশার পর এইখানে শুরু হয় আর এক নতুন জীবন । যাকে জীবন না বলে জীবন সংগ্রাম বললে ঠিক হবে। এ সংগ্রাম টিকে থাকার। বাসা নেই, জব নেই, ব্লক এ টাকা নেই, ভিসা বাড়াতে হবে । তার উপর একদম নতুন একটি ভাষা শেখার চেষ্টা।
তার পর আসি খরচ এর কথায়। মাসিক বাসা ভাড়া ৩০০-৩৫০ ইউরো + ট্রান্সপোর্ট মাসিক কার্ড ৫১ ইউরো (language student  তাই student/semester card দেয় না)+ খাবার ৮০-১১০ ইউরো+ অন্যান্য ৫০। সব মিলিযে ৫৫০-৬০০ ইউরো। আর student job করে পাওয়া যায় ৪০০ ইউরো। তাই বুঝুন জীবন এইখানে কতটা আনন্দে কাটে।
তার পর আসি ভিসা এর কথায়, ভিসা পাযেছে সবাই তাদের Language course এর  duration অনুযায়ী, কারও April, May  or কার June বা July এ ভিসা শেষ। কিন্তু কেউই এখনও Language course শেষ করতে পারে নি, এত চিন্তা এর মাঝে কি পারা যায় । তাই তো আনেক এই A1, A2 Repeat করছে,আর তাই ল্যাঙ্গুয়েজ শেষ না করতে পারায় University admission তো পরের কথা apply ও করতে পারছে না। তা হলে এখন কি হবে। স্কুল বলছে course বাড়াও, মানে per week 100 Euro করে July পর্যন্ত ২০০০ ইউরো দিল july পর্যন্ত course করে Test Daf  দিয়ে Then University।তার মানে ২০০০+(৫*৫০০)= ৪৫০০ ইউরো July পর্যন্ত। কোথা থেকে আসবে ৪৫০০ ইউরো। আর বাংলাদেশ এর ঋণ এর টাকা কি করে দেয়া হবে? কেউ জানে না তার উত্তর? তাকিযে আছে আজানা পথের দিকে!
যতদূর মনে হয উপরের ২৫ জন এর জীবনের গল্প এমন এ হবে। কারও একটু কম, কারও একটু বেশি! প্রায় এক রকম।
সব শেষে এক কথায় এজেন্সি কে আপনি কি বলবেন?:
কি আর বলা যেতে পারে, তা আর না বলে আপনারা নিজেরাই দেখুন গ্রাফ টা।
One  word
.
সবশেযে একটি কথাই সবাই কে বলব। আমরা কিন্তু অনেকেই জানতাম না যে জার্মানীতে আসার পর আমাদের জন্য কি অপেক্ষা করছে। এজেন্সি আমাদের যা বলেছে আমরা তা-ই বিশ্বাস করেছি, আর তারা আমাদের বিশ্বাস কে পুঁজি করে, অনেক টাকা নিয়ে, আমাদের ঠেলে দিচ্ছে আনিশ্চয়তা এর দিকে। সবার একই কথা টাকা খরচ, তারপরও যদি সব কিছু ঠিক থাকত তাহলে কষ্ট তা কম হত। টাকাও দিলাম, আর এখন কষ্টও করছি।সামনের দিনগুলোতে আমাদের জন্য কি অপেক্ষা করছে, কেউ জানে না। আমার না হয়, না জেনে ভুল করেছি।সব কিছু জেনে, আপনিও কি সেই একই ভুল পথে পা বাড়াবেন?
সিধান্ত আপনার। আপনি যেন এই ভুল না করেন তার জন্যই আমাদের এই লেখা। সবাই ভাল থাকবেন আর আমাদের জন্য দোয়া করবেন।


শনিবার, ১৩ জুলাই, ২০১৩

১০০ তে শূন্য পেলাম: হুমায়ূন আহমেদ

Lআগামী ১৯ জুলাই বাংলাদেশের জনপ্রিয়তম কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী। যুক্তরাষ্ট্রে পিএইচডি করার সময়ের ঘটনা তিনি লিখেছেন হোটেল গ্রেভার ইন-এ। ওই লেখার নির্বাচিত কিছু অংশ ‘স্বপ্ন নিয়ে’র পাঠকদের জন্য।

আমি আমেরিকায় এসেছি পড়াশোনা করতে। নর্থ ডাকোটা স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে কেমিস্ট্রির মতো রসকষহীন একটি বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রি নিতে হবে। কত দীর্ঘ দিবস, দীর্ঘ রজনী কেটে যাবে। ল্যাবরেটরিতে, পাঠ্যবইয়ের গোলকধাঁধায়। মনে হলেই হূৎপিণ্ডের টিকটিক খানিকটা হলেও শ্লথ হয়ে যায়।
নর্থ ডাকোটা ইউনিভার্সিটির ক্লাসগুলো যেখানে হয়, তার নাম ডানবার হল। ডানবার হলের ৩৩ নম্বর কক্ষে ক্লাস শুরু হলো। কোয়ান্টাম মেকানিক্সের ক্লাস। কোর্স নম্বর ৫২৯।
কোর্স নম্বরগুলো সম্পর্কে সামান্য ধারণা দিয়ে নিই। টু হানড্রেড লেভেলের কোর্স হচ্ছে আন্ডার-গ্র্যাজুয়েটের নিচের দিকের ছাত্রদের জন্য। থ্রি হানড্রেড লেভেল হচ্ছে আন্ডার-গ্র্যাজুয়েটের ওপরের দিকের ছাত্রদের জন্য। ফোর হানড্রেড এবং ফাইভ হানড্রেড লেভেল হচ্ছে গ্র্যাজুয়েট লেভেল।
ফাইভ হানড্রেড লেভেলের যে কোর্সটি আমি নিলাম, সে সম্পর্কে আমার তেমন কোনো ধারণা ছিল না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অল্প কিছু কোয়ান্টাম মেকানিক্স পড়েছি। একেবারে কিছুই যে জানি না, তাও নয়। তবে এই বিষয়ে আমার বিদ্যা খুবই ভাসাভাসা। জলের ওপর ওড়াউড়ি, জল স্পর্শ করা নয়।
একাডেমিক বিষয়ে নিজের মেধা এবং বুদ্ধির ওপর আমার আস্থাও ছিল সীমাহীন। রসায়নের একটি বিষয় আমি পড়ে বুঝতে পারব না, তা হতেই পারে না।
আমাদের কোর্স কো-অর্ডিনেটর আমাকে বললেন, ফাইভ হানড্রেড লেভেলের এই কোর্সটি যে তুমি নিচ্ছ, ভুল করছ না তো? পারবে?
আমি বললাম, ইয়েস।
তখনো ইয়েস এবং নো-র বাইরে তেমন কিছু বলা রপ্ত হয়নি। কোর্স কো-অর্ডিনেটর বললেন, এই কোর্সে ঢোকার আগে কিন্তু ফোর হানড্রেড লেভেলের কোর্স শেষ করোনি। ভালো করে ভেবে দেখ, পারবে?
: ইয়েস।
কোর্স কো-অর্ডিনেটরের মুখ দেখে মনে হলো, তিনি আমার ইয়েস শুনেও বিশেষ ভরসা পাচ্ছেন না।
ক্লাস শুরু হলো। ছাত্রসংখ্যা পনেরো। বিদেশি বলতে আমি এবং ইন্ডিয়ান এক মেয়ে—কান্তা। ছাত্রদের মধ্যে একজন অন্ধ ছাত্রকে দেখে চমকে উঠলাম। সে তার ব্রেইলি টাইপ রাইটার নিয়ে এসেছে। ক্লাসে ঢুকেই সে বিনীত ভঙ্গিতে বলল, আমি বক্তৃতা টাইপ করব। খটখট শব্দ হবে, এ জন্য আমি ক্ষমা চাচ্ছি। আমি হতভম্ব। অন্ধ ছাত্ররা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে এটা আমি জানি। আমাদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েও কিছু অন্ধ ছাত্রছাত্রী আছে, তবে তাদের বিষয় হচ্ছে সাহিত্য, ইতিহাস, সমাজবিদ্যা বা দর্শন। কিন্তু থিওরিটিক্যাল কেমিস্ট্রি যে কেউ পড়তে আসে আমার জানা ছিল না।
আমাদের কোর্স টিচারের নাম মার্ক গর্ডন। কোয়ান্টাম মেকানিক্সের মস্তান লোক। থিওরিটিক্যাল কেমিস্ট্রির লোকজন তাঁর নাম শুনলে চোখ কপালে তুলে ফেলে। তাঁর খ্যাতি প্রবাদের পর্যায়ে চলে গেছে।
লোকটি অসম্ভব রোগা এবং তালগাছের মতো লম্বা। মুখভর্তি প্রকাণ্ড গোঁফ। ইউনিভার্সিটিতে আসেন ভালুকের মতো বড় একটা কুকুরকে সঙ্গে নিয়ে। তিনি যখন ক্লাসে যান, কুকুরটা তাঁর চেয়ারে পা তুলে বসে থাকে।
মার্ক গর্ডন ক্লাসে ঢুকলেন একটা টি-শার্ট গায়ে দিয়ে। সেই টি-শার্টে যা লেখা, তার বঙ্গানুবাদ হলো, সুন্দরী মেয়েরা আমাকে ভালোবাসা দাও!
ক্লাসে ঢুকেই সবার নামধাম জিজ্ঞেস করলেন। সবাই বসে বসে উত্তর দিল। একমাত্র আমি দাঁড়িয়ে জবাব দিলাম। মার্ক গর্ডন বিস্মিত হয়ে বললেন, তুমি দাঁড়িয়ে কথা বলছ কেন? বসে কথা বলতে কি তোমার অসুবিধা হয়?
আমি জবাব দেওয়ার আগেই কান্তা বলল, এটা হচ্ছে ভারতীয় ভদ্রতা।
মার্ক গর্ডন বললেন, হুমায়ূন তুমি কি ভারতীয়?
: না। আমি বাংলাদেশ থেকে এসেছি।
: ও আচ্ছা, আচ্ছা। বাংলাদেশ। বসো। এরপর থেকে বসে বসে কথা বলবে।
আমি বসলাম। মানুষটাকে ভালো লাগল এই কারণে যে সে শুদ্ধভাবে আমার নাম উচ্চারণ করেছে। অধিকাংশ আমেরিকান যা পারে না কিংবা শুদ্ধ উচ্চারণের চেষ্টা করে না। আমাকে যেসব নামে ডাকা হয় তার কয়েকটি হচ্ছে: হামায়ান, হিউমেন, হেমিন।
মার্ক গর্ডন লেকচার শুরু করলেন। ক্লাসের ওপর দিয়ে একটা ঝড় বয়ে গেল। বক্তৃতার শেষে তিনি বললেন, সহজ ব্যাপারগুলো নিয়ে আজ কথা বললাম, প্রথম ক্লাস তো তাই।
আমি মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়লাম। কিচ্ছু বুঝতে পারিনি। তিনি ব্যবহার করছেন গ্রুপ থিওরি, যে গ্রুপ থিওরির আমি কিছুই জানি না।
আমি আমার পাশে বসে থাকা আমেরিকান ছাত্রটিকে বললাম, তুমি কি কিছু বুঝতে পারলে?
সে বিস্মিত হয়ে বলল, কেন বুঝব না, এসব তো খুবই এলিমেন্টারি ব্যাপার। এক সপ্তাহ চলে গেল। ক্লাসে যাই, মার্ক গর্ডনের মুখের দিকে তাকিয়ে থাকি। কিচ্ছু বুঝতে পারি না। নিজের মেধা ও বুদ্ধির ওপর যে আস্থা ছিল তা ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে গেল। কোয়ান্টাম মেকানিক্সের প্রচুর বই জোগাড় করলাম। রাতদিন পড়ি। কোনো লাভ হয় না। এই জিনিস বোঝার জন্য ক্যালকুলাসের যে জ্ঞান দরকার তা আমার নেই। আমার ইনসমনিয়ার মতো হয়ে গেল। ঘুমুতে পারি না। গ্রেভার ইনের লবিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকি। মনে মনে বলি—কী সর্বনাশ!
দেখতে দেখতে মিড-টার্ম পরীক্ষা এসে গেল। পরীক্ষার পর পর যে লজ্জার সম্মুখীন হতে হবে তা ভেবে হাত-পা পেটের ভেতর ঢুকে যাওয়ার জোগাড় হলো। মার্ক গর্ডন যখন দেখবে বাংলাদেশের এই ছেলে পরীক্ষার খাতায় কিছুই লেখেনি, তখন তিনি কী ভাববেন? ডিপার্টমেন্টের চেয়ারম্যানই বা কী ভাববেন?
এই চেয়ারম্যানকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের সভাপতি প্রফেসর আলি নওয়াব আমার প্রসঙ্গে একটি চিঠিতে লিখেছেন—ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগ যে অল্পসংখ্যক অসাধারণ মেধাবী ছাত্র তৈরি করেছে, হুমায়ূন আহমেদ তাদের অন্যতম।
অসাধারণ মেধাবী ছাত্রটি যখন শূন্য পাবে, তখন কী হবে? রাতে ভয়াবহ দুঃস্বপ্ন দেখতে শুরু করলাম।
মিড-টার্ম পরীক্ষায় বসলাম। সব মিলিয়ে ১০টি প্রশ্ন।
এক ঘণ্টা সময়ে প্রতিটির উত্তর করতে হবে। আমি দেখলাম, একটি প্রশ্নের অংশবিশেষের উত্তর আমি জানি, আর কিছুই জানি না। অংশবিশেষের উত্তর লেখার কোনো মানে হয় না। আমি মাথা নিচু করে বসে রইলাম। এক ঘণ্টা পর সাদা খাতা জমা দিয়ে বের হয়ে এলাম।
পরদিন রেজাল্ট হলো। এ তো আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নয় যে ১৫টি খাতা দেখতে ১৫ মাস লাগবে।
তিনজন এ পেয়েছে। ছয়জন বি। বাকি সব সি। বাংলাদেশের হুমায়ূন আহমেদ পেয়েছে শূন্য। সবচেয়ে বেশি নম্বর পেয়েছে অন্ধ ছাত্রটি। [এ ছেলেটির নাম আমার মনে পড়ছে না। তার নামটা মনে রাখা উচিত ছিল।]
মার্ক গর্ডন আমাকে ডেকে পাঠালেন। বিস্মিত গলায় বললেন, ব্যাপারটা কী বলো তো?
আমি বললাম, কোয়ান্টাম মেকানিক্সে আমার কোনো ব্যাকগ্রাউন্ড ছিল না। এই হায়ার লেভেলের কোর্স আমি কিছুই বুঝতে পারছি না।
: বুঝতে পারছ না তাহলে ছেড়ে দিচ্ছ না কেন? ঝুলে থাকার মানে কী?
: আমি ছাড়তে চাই না।
: তুমি বোকামি করছ। তোমার গ্রেড যদি খারাপ হয়, যদি গড় গ্রেড সি চলে আসে, তাহলে তোমাকে বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে চলে যেতে হবে। গ্র্যাজুয়েট কোর্সের এই নিয়ম।
: এই নিয়ম আমি জানি।
: জেনেও তুমি এই কোর্সটা চালিয়ে যাবে?
: হ্যাঁ।
: তুমি খুবই নির্বোধের মতো কথা বলছ।
: হয়তো বলছি। কিন্তু আমি কোর্সটা ছাড়ব না।
: কারণটা বলো।
: একজন অন্ধ ছাত্র যদি এই কোর্সে সবচেয়ে বেশি নম্বর পেতে পারে, আমি পারব না কেন? আমার তো চোখ আছে।
তুমি আবারও নির্বোধের মতো কথা বলছ। সে অন্ধ হতে পারে, কিন্তু তার এই বিষয়ে চমৎকার ব্যাকগ্রাউন্ড আছে। সে আগের কোর্স সবগুলো করেছে। তুমি করোনি। তুমি আমার উপদেশ শোনো। এই কোর্স ছেড়ে দাও।
: না।
আমি ছাড়লাম না। নিজে নিজে অঙ্ক শিখলাম। গ্রুপ থিওরি শিখলাম, অপারেটর অ্যালজেব্রা শিখলাম। মানুষের অসাধ্য কিছু নেই এই প্রবাদটি সম্ভবত ভুল নয়। একসময় অবাক হয়ে লক্ষ করলাম কোয়ান্টাম মেকানিক্স বুঝতে শুরু করেছি।
ফাইনাল পরীক্ষায় যখন বসলাম, তখন আমি জানি আমাকে আটকানোর কোনো পথ নেই। পরীক্ষা হয়ে গেল। পরদিন মার্ক গর্ডন একটি চিঠি লিখে আমার মেইল বক্সে রেখে দিলেন। টাইপ করা একটা সংক্ষিপ্ত চিঠি, যার বিষয়বস্তু হচ্ছে:
—তুমি যদি আমার সঙ্গে থিওরিটিক্যাল কেমিস্ট্রিতে কাজ করো তাহলে আমি আনন্দিত হব এবং তোমার জন্য আমি একটি ফেলোশিপ ব্যবস্থা করে দেব। তোমাকে আর কষ্ট করে টিচিং অ্যাসিসটেন্টশিপ করতে হবে না।
একটি পরীক্ষা দিয়েই আমি এই বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিচিত হয়ে গেলাম।
পরীক্ষায় কত পেয়েছিলাম তা বলার লোভ সামলাতে পারছি না। পাঠক-পাঠিকারা আমার এই লোভ ক্ষমার চোখে দেখবেন বলে আশা করি। আমি পেয়েছিলাম ১০০ তে ১০০।
বর্তমানে আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের কোয়ান্টাম কেমিস্ট্রি পড়াই। ক্লাসের শুরুতে ছাত্রদের এই গল্পটি বলি। শ্রদ্ধা নিবেদন করি ওই অন্ধ ছাত্রটির প্রতি, যার কারণে আমার পক্ষে এই অসম্ভব সম্ভব হয়েছিল। [সংক্ষেপিত]
সূত্র: ডানবার হলের জীবন, হোটেল গ্রেভার ইন, কাকলী প্রকাশনী, আগস্ট ১৯৮৯।

বৃহস্পতিবার, ১১ জুলাই, ২০১৩

Travel blog

http://www.goabroad.com/providers/international-student-volunteers/programs/combine-volunteering-and-adventure-across-six-continents%21-66968
http://www.discoveryadventures.com
http://www.lonelyplanet.com
http://adventures.bootsnall.com

বুধবার, ৩ জুলাই, ২০১৩

প্রজেক্ট ম্যানেজম্যান্ট মেথটলজি

একটা প্রজেক্ট এ সাধারনত অনেকগুলো পেজ থাকে। পেপ গুলোকে জে নামেই ডাকা হোক না কেন সাধারনত নিচের কন্সেপগুলো ই থাকে।
পেজ ১ : ইনবেস্টিগেসন
পেজ ২ : প্লান ও ডিজাইন
পেজ ৩ : প্রডাক্টশন
পেজ ৪ : এভুলুয়েশন ও মনিটর

পেজ ১ :ইনভেস্টিগেশন