J লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
J লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বুধবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৩

J জমিদারির শহরে


লেখাটি এখান থেকে নেয়া হয়েছে
বাড়িটি প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে দীর্ঘদিন। কিন্তু জরাজীর্ণ সে বাড়িটির কোনো ধরনের
সংস্কার সাধন করা হয়নি এখন পর্যন্ত।
বিশাল বাড়িটির দেখভাল করার জন্য আছেন মাত্র একজন। সেই একজন রশিদ মিয়াকে আবার সব সময়
পাওয়া যায় না। অনুমতি নেই, তবু কেউ কেউ জরাজীর্ণ বাড়িটির ছাদে বা কার্নিশের ওপর চড়ে বসেন। এখানে
কোনো গাইডের ব্যবস্থাও নেই। তবু দেখা হয়ে গেল একদল আলোকচিত্রীর সঙ্গে। স্রেফ বেড়াতে এসেছেন,
এমন মানুষও কম নন।
যে বাড়িটির কথা এতক্ষণ আপনাদের বলে চলেছি, সেটি হচ্ছে মুক্তাগাছা রাজবাড়ি। ময়মনসিংহ শহর থেকে
১৬ কিলোমিটার দূরে এর অবস্থান। ছুটিছাঁটায় কোথাও বেড়াতে মন চাইলে চলে আসতে পারেন এখানে।
ময়মনসিংহ শহর থেকে সময় লাগে আধা ঘণ্টার মতো। আর ঢাকা থেকে সাকল্যে চার ঘণ্টা। দিনে গিয়ে দিনেই
ফিরে আসা সম্ভব। মুক্তাগাছার জমিদারির বিশাল অংশ ময়মনসিংহ শহরে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে। এসব
নিদর্শনের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে শশী লজ (বর্তমান মহিলা টিচার্স ট্রেনিং কলেজ), লোহার কুঠি বা আলেকজান্ডার
ক্যাসল (বর্তমান টিচার্স ট্রেনিং কলেজ), সূর্যকান্ত হাসপাতাল (এস কে হাসপাতাল), রাজ রাজেশ্বরী পানির
ট্যাংক, শিবমন্দির, বিদ্যাময়ী স্কুল ও ময়মনসিংহ টাউন হল। তা ছাড়া ময়মনসিংহ শহরের অন্য দর্শনীয়
স্থানগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন সংগ্রহশালা, ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়,
ময়মনসিংহ জাদুঘর, নজরুল স্মৃতি কেন্দ্র ও ব্রহ্মপুত্র নদ। একসঙ্গে এতগুলো অসাধারণ নিদর্শন ময়মনসিংহ
বেড়ানো সার্থক করে তোলে।
Untitled-23যাত্রা হলো শুরু
ঢাকা থেকে গাজীপুর চৌরাস্তা পর্যন্ত রাস্তার যানজটে সবকিছু কেমন অস্থির মনে হবে। জাতীয় উদ্যান শুরু হতেই
অনুভূতি অন্য রকম। এখানকার সবুজ মনে অদ্ভুত অনুভূতি তৈরি করবে। বিড়ম্বনাও আছে, রাস্তাঘাট
মাঝেমধ্যেই ভাঙাচোরা। এখানে দীর্ঘদিন রাস্তা সম্প্র্রসারিত করার কাজ চলছে।
তাই ময়মনসিংহ শহরে আসতে তিন ঘণ্টা বা তার একটু বেশি সময় লাগতে পারে।এখানে একটু যাত্রাবিরতি
দিয়ে চলুন চলে যাই মুক্তাগাছা। মুক্তাগাছার পথে নামতেই আবার সেই অদ্ভুত অনুভূতি। এখানকার রাস্তা
দারুণ! পথের দুই পাশেই সবুজ। এভাবেই পুকুর-ডোবা, ধানখেত আর খোলা প্রান্তরের সবুজে চোখ মেলে দেখে
দেখে একসময় চলে আসবেন মুক্তাগাছা।
মুক্তাগাছা রাজবাড়ি
মুক্তাগাছার জমিদারির মোট অংশ ১৬টি। অর্থাৎ ১৬ জন জমিদার এখানে শাসন করতেন। মুক্তাগাছা
রাজবাড়িটির প্রবেশমুখে রয়েছে বিশাল ফটক। ভেতরে প্রবেশ করলে জীর্ণপ্রায় বাড়িটির অন্য রকম সৌন্দর্যে
চোখ জুড়িয়ে যাবে। প্রায় ১০০ একর জায়গার ওপর নির্মিত এই রাজবাড়িটি প্রাচীন স্থাপনাশৈলীর অনন্য
নিদর্শন।
শুরুতেই দেখা পাবেন একতলা একটি ভবনের। লোহার পাত আর কাঠের পাটাতন দিয়ে করা ছাদ চমৎকার! তা
ছাড়া লোহার পাতের নানা রকম নকশা এ বাড়ির চারপাশে আপনার দৃষ্টি এড়াবে না। এখানে একসময় ছিল
ঘূর্ণায়মান একটি রঙ্গমঞ্চ। দৃষ্টিনন্দন রাজ রাজেশ্বরী মন্দিরটির দেখা পাবেন রাজবাড়ির প্রবেশমুখেই।
রাজকোষাগার, টিন আর কাঠের তৈরি অসাধারণ এক-দোতলা রাজপ্রাসাদ, রানির অন্দরমহল। লম্বা লম্বা
করিডরগুলোও মুগ্ধতা জাগায়।
তা ছাড়া আরও আছে লাইব্রেরি, দরবার হল, কাচারিঘর, লক্ষ্মীপূজা আর দুর্গাপূজার ঘর। আর পেছনে রয়েছে
একটি গোপন সুড়ঙ্গ। মুক্তাগাছা রাজবাড়িটি পাশেই আরও দুটি রাজবাড়ি আছে। শহীদ স্মৃতি ডিগ্রি কলেজ এর
মধ্যে একটি। অন্য বাড়িটি ছিল সে সময়কার হাতিশালা। বর্তমানে এটি আর্মড ব্যাটালিয়ন পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স
হিসেবে ব্যবহূত হচ্ছে। দেখা শেষ হলো মুক্তাগাছা রাজবাড়ি। এবার মুক্তাগাছার প্রসিদ্ধ গোপাল পালের মণ্ডার
দোকান ঘুরে মণ্ডা খেয়ে বাড়ির জন্য মণ্ডা নিয়েও যান।

Untitled-22কীভাবে যাবেন
ঢাকা থেকে সরাসরি ময়মনসিংহ বাস সারা দিন চলাচল করে। মহাখালী থেকে চলা সেসব বাসের মধ্যে
অন্যতম হলো এনা, সৌখিন, নিরাপদ ও শামীম এন্টারপ্রাইজ। ভাড়া এসি ২৭০, নন-এসি ২৫০ টাকা।
ময়মনসিংহ থেকে মুক্তাগাছা বাস সার্ভিস রয়েছে। চাইলে মুমিনুন্নেসা মহিলা কলেজ মোড় থেকে
সিএনজিচালিত অটোরিকশায় চড়েও মুক্তাগাছা যেতে পারেন। মাথাপিছু ভাড়া পড়বে ২০ টাকার মতো।
ময়মনসিংহ-মুক্তাগাছা এক দিনে ভ্রমণ সারতে চাইলে নিজস্ব বাহন উত্তম। আর সময় নিয়ে গেলে ময়মনসিংহ
শহরে থাকার ভালো ব্যবস্থা রয়েছে। সে ক্ষেত্রে আমির ইন্টারন্যাশনাল আর হোটেল মুস্তাফিজ ইন্টারন্যাশনালের
ওপর আপনি ভরসা করতেই পারেন। আর খাবার নিয়ে কোনো চিন্তা নেই। প্রেসক্লাব ক্যানটিনের
মোরগ-পোলাওয়ের খুব নামডাক। আর আছে হোটেল ধানসিঁড়ি ও হোটেল সারিন্দা।

J অমিয়াখুমের ঝরনাধারায়...


লেখাটি এখান থেকে নেয়া হয়েছে  রাকিব কিশোর | আপডেট: ০০:০৮, জুন ১১, ২০১৩ প্রিন্ট সং


সেই রাতের কথা আজীবন মনে রাখব, বিছানার নিচে কুকুর, ছাগল, মুরগি, গরু আর শূকরের মিশ্রিত ডাক, আর মাথার ওপরে অবাক চাঁদের মৌন হাতছানি, অস্থির!আমরা ঘুমিয়ে ছিলাম মাটি থেকে তিন-চার ফুট উঁচুতে বানানো চারপাশ খোলা একটা টংঘরে, এখানে মে মাসের প্রচণ্ড গরমের রাতে শীতে কাঁপতে কাঁপতে কম্বল মুড়ি দিয়ে ঘুমানোর কী যে আরাম, তা কারে বোঝাই! তার ওপর মাঝরাতে যখন চোখ মেলেই দেখি আকাশে আধখানা চাঁদ তার ঘোলাটে হলদে আলো দিয়ে আমাদের দেখার প্রাণপণ চেষ্টা করছে, তখন মনে হয়, আসলেই ‘লাইফ ইজ বিউটিফুল’! জায়গার নাম জিনাপাড়া। অমিয়াখুম যাওয়ার পথেই পড়বে।অমিয়াখুম যেতে হলে পাড়ি দিতে হয় থানচি থেকে রেমাক্রি পর্যন্ত পাথুরে সাঙ্গু নদী। এই নদীর তলদেশে থোকায় থোকায় থাকা পাথরকণা হার মানিয়ে দেয় মুক্তোদানাকেও। এই পথেই পড়ে তিন্দু। তিন্দুর ব্যাপারে আমার বক্তব্য হলো, বান্দরবান যদি বাংলাদেশের স্বর্গ হয়, তাহলে তিন্দু সেই স্বর্গের রাজধানী। তিন্দুর পরের জায়গাই হলো রাজা পাথর এলাকা। স্থানীয় বাসিন্দাদের পূজনীয় ভয়ংকর পাথরের এই রাজ্য। বর্ষাকালে এখানে প্রায় প্রতিদিন দুর্ঘটনা ঘটে। এই পথ হেঁটে পেরিয়ে নাফাখুম, আর নাফাখুম পার হয়ে বিকেলের মধ্যেই আমরা পৌঁছে গেলাম জিনাপাড়ায়।বান্দরবানের এই গ্রামের মানুষ এখনো আদিম, সহজ-সরল এই মানুষগুলো এখনো পর্যটক দেখলে হাঁ করে তাকিয়ে থাকে, কিছু খেতে চাইলেই কোথা থেকে যেন পাকা পেঁপে পেড়ে নিয়ে আসে। জিনাপাড়ায় একটাই সমস্যা, এখানে কোনো বাথরুম নেই।পরদিন সকালে পা চালালাম আমিয়াখুম দেখার উদ্দেশে।জিনাপাড়া থেকে অমিয়াখুম যাওয়ার পথে কয়েকটা উঁচু উঁচু পাহাড় ডিঙাতে হয়।আহসান সবার আগে আগে হাঁটছে, আমি তার পেছনে। হঠাৎ সে থমকে দাঁড়িয়ে চিৎকার দিয়ে উঠল। চোখের সামনে বিশাল লম্বা ধবধবে সাদা একটা দুধরাজ সাপ কুণ্ডলী পাকিয়ে শুয়ে ছিল, আমাদের আওয়াজ পেয়ে মুহূর্তেই হারিয়ে গেল আরও গভীরে। মিনিট পাঁচেক পরেই সামনে দেখি বিশাল বিশাল ছয়টা পাহাড়ি গয়াল আমাদের রাস্তা আটকে দাঁড়িয়ে আছে। তাদের ভদ্রভাবে রাস্তা থেকে সরানো আরেক ধৈর্যের কাজ।
পরের রাস্তাটুকু আতঙ্কের, জীবনে কখনো এত খাড়া পাহাড়ি রাস্তা ধরে নামিনি, পুরো ৮৫ ডিগ্রি কোণে নামতে হচ্ছে প্রায় হাজার ফুটের পাহাড়! নইচ্চেন তো মইচ্চেন অবস্থা। ভাগ্যকে বারবার দোষারোপ দিলাম সঙ্গে করে রশি আনিনি বলে। টানা ৪০ মিনিট থরথর করে কাঁপা পা নিয়ে পুরো খাড়া পাহাড় নেমে ঢুকলাম ঘন জঙ্গলের রাজ্যে। আমাদের সামনে আকাশছোঁয়া গোল গোল পাথরের দেয়াল, তার মধ্য দিয়ে ঝরঝর করে বয়ে চলছে সবুজ পানির কোলাহল। এখানে-ওখানে জমে সেই পানি রূপ নিয়েছে একেকটা লেগুনে। স্বচ্ছ সেই লেগুনের বুকে অলসভাবে সাঁতরে বেড়াচ্ছে বিশাল বিশাল সব মাছের দল, কারও কোনো তাড়া নেই, কোথাও যাওয়ার তাগিদ নেই।
25আমাদের গাইড তাগাদা দিল, এসব নাকি কিছুই না, বামে অমিয়াখুম আর ডানে সাতভাইখুম। সেখানে গেলে আমরা নাকি মাথা ঘুরে পড়ে যাব এমন সুন্দর!
ছুট লাগালাম জল-পাথরের আড্ডা ছেড়ে জলের পাঠশালায়। এ পাথরের ওপর দিয়ে ও পাথরের তলা দিয়ে যখন দাঁড়ালাম, তখন তীব্র ঘামের মধ্যেও মেরুদণ্ড বেয়ে নেমে যাওয়া শীতল পানির ধারার অস্তিত্ব টের পেতে ভুললাম না, অবাক চোখের সামনে নিজেকে খোলামেলা করে মেলে ধরেছে বান্দরবানের সবচেয়ে সুন্দর এই জায়গা। ভরদুপুরের আলোয় অদ্ভুত রহস্যলাগা সৌন্দর্য নিয়ে চোখ ধাঁধিয়ে দিচ্ছে অনাদিকাল থেকে রূপ ধরে রাখা পাহাড়ি ঝরনা ‘অমিয়াখুম’।
এমন পানিতে ঝাঁপ না দেওয়া গুরুতর অন্যায়। আমি তোড়জোড় শুরুর আগেই দেখি সেখানে ঝাঁপিয়ে পড়েছে সাঁতার না-জানা অপু ভাই, গায়ে তার লাইফ জ্যাকেট! পানির চাপ অগ্রাহ্য করে চলে গেলাম এক্কেবারে ঝরনার গোড়ায়। অমিয়াখুমের দুই পাশের পাহাড়ের গঠনশৈলী পুরোটাই অন্য রকম, সিঁড়ির পরে সিঁড়ি জমেছে এখানে, সেগুলোর ধাপ আবার এত বড় যে একেকটা ধাপে তাঁবু টানিয়ে আরাম করে ঘুমানো যাবে।
ভেবেছিলাম এবারের মতো ভালো লাগার বুঝি সমাপ্তি হলো, কিন্তু সে ধারণা ভেঙে দিল সাতভাইখুম নামক জায়গা। অমিয়াখুম থেকে একটু ওপরের দিকে বাঁশের ভেলায় চড়ে যেতে হয় সাতভাইখুমে। মাত্র ১০ মিনিটের এই পানির রাস্তার কাছে নস্যি দুনিয়ার সপ্তাশ্চর্যও! জীবনের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর ভ্রমণের অভিজ্ঞতাও হয়ে গেল এবার। ওজন সইতে না পেরে টুপ করে ডুবে গেল আরমান আর শিপন ভাইদের ভেলা, সেটা দেখে সাঁতার না-জানা আলো ভাইয়ের চেহারা হলো দেখার মতো।
আমরা একটা পাথরের দুর্গে ঢুকলাম, নিজেদের প্রথমবারের মতো বোবা মনে হলো। চোখের সামনে যেন পাথরের সভা বসেছে। জীবনে এত বড় বড় পাথর আমি কখনো দেখিনি। পুরো বান্দরবান যেন এখানে একসঙ্গে ধরা দিয়েছে, এখানে তিন্দুর মতো বড় বড় পাথরও আছে, আছে অমিয়াখুমের মতো সিঁড়ি সিঁড়ি ঝরনা, আছে বগা লেকের মতো স্বচ্ছ পানির হ্রদও।


26যেভাবে যাবেনবান্দরবানে পৌঁছে সোজা চলে যাবেন থানচিতে। সেখান থেকে নৌকা নিয়ে থামবেন রেমাক্রিতে। এরপর আর কোনো গাড়ি যাবে না, পায়ের ওপরে ছেড়ে দিতে হবে শহুরে হাওয়ায় পেলে পুষে বড় করা শরীরটাকে। চলতি পথে নাফাখুম পড়বে, সেখান থেকে যেতে হবে জিনাপাড়া। এখানে হুটহাট ছবি তুলবেন না।খেয়াল রাখবেন তাদের সংস্কৃতিতে যেন কোনো আঘাত না লাগে। সেখানে রাতে থেকে পরদিন খুব ভোরে অমিয়াখুম আর সাতভাইখুমের দিকে হাঁটা দেবেন। সঙ্গে করে রশি, লাইফ জ্যাকেট আর খাবার নিয়ে যাবেন। ফিরে আসার পথে ‘পদ্মমুখ’ রাস্তা দিয়ে ফেরত আসতে পারেন। সে ক্ষেত্রে মাত্র পাঁচ ঘণ্টা হেঁটে অনেক আগেই আপনি থানচিতে পৌঁছাতে পারবেন। অমিয়াখুম ও সাতভাইখুম ভালোভাবে ঘুরে আসতে চার দিন লেগে যাবে। গাইডরা এখন একটা প্যাকেজ চালু করেছে, সে প্যাকেজ অনুযায়ী শুধু থানচি থেকে সব ঘুরে আবার থানচিতে ফেরত আসতে আপনার মোট খরচ হবে দুই হাজার ৫০০ থেকে তিন হাজার টাকা। এই জায়গা দুর্গম, ভারী জিনস আর ট্রলি ব্যাগ না নিয়ে যাওয়াই ভালো।

J দুই দিনে তিন ঝরনা

লেখাটি এখান থেকে নেয়া হয়েছে 
বর্ষায় পাহাড়ের সৌন্দর্য আরও বাড়ে, বৃষ্টির পানি পেয়ে আরও সবুজ হয় তার গাছপালা। আর পাহাড় বেয়ে নেমে আসার ঝরনাগুলোও মেলে ধরে তাদের পূর্ণ রূপ। এত দিন হয়তো তা ছিল শুকনো, পায়ে চলা পথের মতো, কিংবা কুলকুল বয়ে চলা সরু ধারা বর্ষায় তারই রূপ দেখে কে! বৃষ্টির সময় পাহাড়ে বেড়াতে যাওয়াটা সব সময়ই উপভোগ্য। তাই এবার বেরিয়ে পড়লাম চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের উদ্দেশে। দেখতে যাব সহস্রধারা ঝরনা। সীতাকুণ্ডের দুই কিলোমিটার আগেই নেমে পড়তে হলো। Untitled-24এই ঝরনা সবাই চেনেন না। পর্যটকদের আনাগোনা প্রায় নেই-ই, গাইডও তাই পাওয়া যায় না। স্থানীয় লোকজনের মুখের কথাই পথের নির্দেশ দেয় আমাদের। সারা দিনই ঝরছে টিপটিপ বৃষ্টি। এর মধ্যে কাঁচা রাস্তা ভেঙে পৌঁছালাম প্রোজেক্ট। সেখানে দেখি টিলার ওপর স্লুইসগেট। আগে নাকি এটি বন্ধ ছিল, তখন পাহাড়ের ওপর এক হ্রদ ছিল। এখন ঝরনা থেকে নেমে আসা একটা ঝিরিপথ চলে গেছে সেদিকে। যেন সবুজ ভেলভেট বিছানো সেই ঝিরিপথ ধরেই হাঁটা শুরু হলো আমাদের। কিছুক্ষণ পর ঝরনার দেখা পেলাম। সেদিন আমাদের ভাগ্য ভালোই। বৃষ্টিতে আরও বেড়েছে সহস্রধারার পানি। গর্জন শোনা যায় সেখানে। ডালপালার ফাঁক দিয়ে চোখে পড়ে তার তেজ। সকালে এক ঝরনা দেখে বিকেলে আরেকটা দেখার পালা। এটি সীতাকুণ্ড শহর থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরে ইকোপার্ক। পার্কের প্রবেশমুখে নেমে দুই কিলোমিটার পথ সিএনজি চালিত অটোরিকশা দিয়ে যেতে হয়। এর সার্থক নাম সুপ্তধারা। প্রবেশমুখে লেখা আছে, ‘ঘুমিয়ে থাকি, জেগে উঠি বর্ষায়’। পাহাড়ের একদম শেষে এর অবস্থান। পুরো পথটাই সিঁড়ি বাঁধানো। তবে উঠতে হবে না, নামতে হবে। গুনে দেখিনি, মনে হলো অন্তত ৫০০ ধাপ তো হবেই। তবে ক্লান্তি টেরই পাইনি। চিকন চিকন গাছপালার ফাঁক দিয়ে নরম আলোয় নেমে যাওয়া, বৃষ্টিধোয়া পাতার ঘ্রাণও পাচ্ছিলাম যেন। একটাই সমস্যা জোঁক—একবার ধরলে বেড়ানোর মজা অনেকটাই মাটি। অনেকে সুপ্তধারা ঝরনাকেই সহস্রধারা ভাবেন। তবে দুটো একদমই আলাদা। এই ঝরনার পানির ধারা মূলত চারটি। ছোট আরও কিছু ধারা চোখে পড়ে। ধবধবে সাদা পানির ফেনা তুলে নামছে নিচে।
সারা দিনে দুটি ঝরনার পানিতে মনভরে গোসল করেছি। দুটোই আমাদের ক্লান্তি ধুয়ে-মুছে তরতাজা করে দিয়েছে। পরদিন তাই নতুন আর একটা ঝরনার উদ্দেশে যাত্রায় উদ্যমের অভাব হয়নি কোনো।
Untitled-25এবার খইয়াছড়া ঝরনা। সিএনজি চালিত অটোরিকশায় গন্তব্য মিরেরসরাই বড় দরগায়। এরপর পা-ই ভরসা। গ্রামের কাঁচা পথে প্রায় ৪০ মিনিট হাঁটার পর পেলাম খইয়াছড়ার দেখা। তবে এখান থেকে এর রূপের সামান্যই চোখে পড়ে। এই ঝরনার আট স্তর। নিচে থেকে আমরা দেখেছি মাত্র তিন স্তর। তবে কি বাকিগুলো দেখা হবে না! এত দূরে এসে তো ফেরা যাবে না। আমরা নামলাম টারজানের ভূমিকায়। গাছের শিকড় আর দড়ি ধরে ঝরনার পাশের খাড়া পথ বেয়ে উঠতে শুরু করলাম। চারদিকে ঘন সবুজ, নিচে চোখে পড়ছে ঝরনার ধারা। প্রায় আধা ঘণ্টায় একটু উঠলাম। বৃষ্টিতে পথ পিচ্ছিল। মাঝেমধ্যেই পা ফসকাচ্ছে। আর সাহস করলাম না। ফিরলাম নিচের দিকে। পরে আসার জন্য এটুকু বাকি থাক।

জেনে নিন
এই ভ্রমণের সুবিধা হলো দুই হাজার টাকারও কমে ঘুরে আসা যায় এই তিন ঝরনা। ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের বাসে চড়ে সীতাকুণ্ডে নেমে পড়ুন। এখানে ভালো হোটেল বলতে হোটেল সায়মন। ভাড়া ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা। চট্টগ্রামে থাকলে অনেক ভালো হোটেল পাবেন। এ ছাড়া ঝরনায় যাওয়ার পথে শুকনো খাবার ও পানি সঙ্গে নিন। কারণ, গ্রামের পথে দোকানপাট পাবেন খুবই কম।

J লালাখাল ও জাফলং


লেখাটি এখান থেকে নেয়া হয়েছে 
এই, বৈঠা বাওয়া বন্ধ করো, সবাই চুপ!’ পানিতে নৌকার বৈঠা ফেলার যে ছলাৎ ছলাৎ শব্দ, সেটাও বন্ধ হয়ে গেল। নৌকার আমরা ছয়জনও একেবারে নিশ্চুপ। পাছে শব্দ হয়, এই ভয়ে পারলে নিঃশ্বাসও বন্ধ করে রাখি যেন। ‘চোখ বন্ধ করুন, কান পাতুন।’ আশরাফুল কবিরের এ কথার মর্ম বোঝা গেল চোখ বন্ধ করতেই। ছোট্ট দেশি নৌকা একেবারে গতিহীন নয়, তবে শব্দহীন। কান পেতে শুনতে থাকি নানা রকম পাখির কিচিরমিচির। কোনটা কোন পাখির ডাক, তা বলতে পারব না—বলার দরকারও নেই। অপূর্ব নিসর্গে পাখিদের এই আশ্চর্য অর্কেস্ট্রা অনুভব করাই বড় কথা। আশপাশে আঁকাবাঁকা সব গাছ। মাথার ওপরে ডাল-পাতার ভরাট বুনন। মাঝেমধ্যে নীল-সাদা আকাশে উঁকিঝুঁকি। পাখির শব্দ শুনি কয়েক মিনিট ধরে। আশরাফুল বলেন, ‘এভাবেই এই বন উপলব্ধি করা যায়। পাখির শব্দে খোঁজ মেলে বনের আরেক সৌন্দর্য।’ Untitled-15সিলেটের রাতারগুল বনে আষাঢ়ের এক শেষ বিকেলে আমরা যেন প্রকৃতির অংশ হয়ে যাই। সকালে ঢাকা থেকে রওনা দিয়ে দুপুরেই পৌঁছেছি সিলেটে। ঘাঁটি সিলেট-তামাবিল-জাফলং সড়কে খাদিমনগরের নাজিমগড় রিসোর্টে। বাক্স-পেটরা রেখে সিলেট থেকে রাতারগুল। প্রথমআলোর সিলেট প্রতিনিধি উজ্জ্বল মেহেদি পথ বাতলে দেন। আলোকচিত্রী আনিস মাহমুদ আর দেশটিভি ও ইংরেজি দৈনিক দ্য ইন্ডিপেন্ডন্ট-এর স্থানীয় আলোকচিত্রী আশরাফুল কবির আমাদের সঙ্গী। আশরাফুল হচ্ছেন রাতারগুলপ্রেমিক। এই জায়গা তাঁর কাছে সুন্দরতম স্থান। এখানে গিয়ে কেউ কোলাহল করলে, কেউ চিপসের প্যাকেট, পানির বোতল ফেললে আশরাফুল ব্যথিত হন। রাতারগুলে গিয়েও সে কথা বোঝা যায়। এটি মূলত জলার বন (সোয়াম্প ফরেস্ট)। বর্ষাকালে এতে পানি থাকে আর শীতকালে এটি শুষ্ক। মাত্র পাঁচ একর জায়গাজুড়ে এ বন। তাই আশঙ্কা, বনটা টিকবে তো?
রাতারগুলে হিজল, করচ, বনজাম, জংলী বট—এসব গাছ একটার সঙ্গে আরেকটা মিলেমিশে তৈরি করেছে অন্য রকম এক প্রকৃতি। আছে মুতরা নামের গুল্মজাতীয় উদ্ভিদ। আনিস জানান, মুতরা থেকেই তৈরি হয় শীতলপাটি। ‘Untitled-16আর শীতকালে এই বনের মধ্য দিয়ে হাঁটা যায়। মাটিতে তখন যেন বিছানো থাকে ঝরা পাতার কার্পেট।’ সিলেট শহর থেকে কোম্পানিগঞ্জের রাস্তা ধরে ধুপাগুল, তারপর কাঁচা-পাকা পথ দিয়ে মোটর ঘাট। মোট ৩০ কিলোমিটার। এখানে ছোট নৌকা নিয়ে ১০-১২ মিনিটেই ঢোকা যায় রাতারগুল বনে। বর্ষাকালে বনে ৮-১০ ফুটের মতো পানি থাকে। তার ওপর গাছের চাঁদোয়া। এ বনে সাপ আছে, আছে বানরও। বলতে বলতেই এক গাছ থেকে আরেক গাছে লাফিয়ে গেল একদল বানর। বন থেকে বেরোতে ইচ্ছে হয় না। তবে সন্ধ্যা নামছে দ্রুত, তাই আবার ফিরে চলা। আগের রাতেই ঠিক হয়েছিল প্রথম আলোর শাবিপ্রবি প্রতিনিধি মিসবাহ্ উদ্দিন আমাদের নিয়ে যাবেন লালাখাল আর জাফলং। পরদিন সকাল ১০টার দিকে রওনা লালাখালের দিকে। সিলেট-জাফলং সড়কের মাঝখানে আইল্যান্ডের মতো আছে জৈন্তা রানির বিশ্রামাগার। এর ডান দিক দিয়ে লালাখালের রাস্তা। প্রায় আধঘণ্টায় পৌঁছে গেলাম লালাখালের মুখে।Untitled-18এখান থেকে ইঞ্জিনচালিত এক নৌকায় শুরু হলো লালাখাল দর্শন। দুই দিকেই পাহাড়, টিলা। একদিকে চা-বাগান। সময় থাকলে নৌকা থামিয়ে চা-বাগান দর্শনও করা যায়। টিলার ওপরে ওয়াচ টাওয়ারের মতো দাঁড়িয়ে আছে নাজিমগড়ের আরেকটি রিসোর্টের স্থাপনা। খালের একটা দিক বাংলাদেশে, আরেকটা ভারতে। কিছুদূর যেতেই খালের পাশের টিলায় বিএসএফ ক্যাম্প। মাঝি হিন্দি-বাংলা মিশিয়ে চিৎকার করে আরেকটু এগোনোর অনুমতি নিয়ে নিল। নৌকা কিছুটা এগোতে চোখে পড়ল বিরাট এক টিলার ওপর লম্বা লম্বা গাছের সারি। সুপারির বাগান, পড়েছে ভারত সীমানায়। নানা উচ্চতায় টিলার পুরোটাতেই হাজার হাজার সুপারি গাছের সারি। একটার মাথা যেখানে শেষ হয়েছে, আরেকটা সুপারিগাছের গোড়া সেখানে শুরু হয়েছে। সুপারিগাছের এমন বিন্যাস সহসা দেখা যায় না। দুপুরে আমরা পৌঁছালাম জাফলং। তামাবিল-জাফলং সড়কের পাশে ভারতীয় পাহাড়-টিলা। পাহাড়ের সবুজ ভেদ করে শুভ্র রেখা দেখা যায় মাঝেমধ্যে। এগুলো ঝরনা। পাশাপাশি ওপরে-নিচে বেশ কয়েকটা। বর্ষায় ঝরনার সেই জল ঝরে পড়ছে পাহাড়ের গায়ে। জাফলং, প্রকৃতি আর যান্ত্রিকতার বৈপরীত্য যেন এখানে। স্বচ্ছ জলে ভেসে আসে পাথর। নদী থেকে পাথর তুলে নৌকা দিয়ে আনা হয় পাড়ে। শত শত ট্রাকে পাথর তোলা হয়। আর এখানে-সেখানে পাথর ভাঙার যন্ত্র, জান্তব তার আওয়াজ। তবুও নদী নিয়ে ওপারে খাসিয়াপল্লি গেলে আবার অন্য রকম অনুভূতি হয়।
জাফলংয়ের নদীর ওপাশেই ভারতের ডাউকি এলাকা। পাহাড়ের গায়ে লোকালয়। সাদা, হলুদ, নীল ও সবুজ দালান, টিনের চাল। ভারতের মধ্যেই পড়েছে জাফলংয়ের তোলা ছবির সেই বিখ্যাত পটভূমি ঝুলন্ত সেতু। স্বচ্ছ জলের স্রোতে নৌকা থামিয়ে অপেক্ষা করি সেতুর কাছে গিয়ে। মিনিট কয়েক পর সেতুতে ওঠে একটা গাড়ি। মনে মনে ভাবি, সেতু পেরিয়ে উঁচু-নিচু আঁকাবাঁকা পথ ধরে এ গাড়ি নিশ্চয়ই পৌঁছে যাবে শেষের কবিতার শিলং শহরে।

যেভাবে যাবেন
Untitled-19সড়ক, রেল ও বিমানপথে সিলেট যাওয়া যায়। রাতারগুল যেতে সিলেট থেকে বাস, টেম্পো বা ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় ধুপাগুল, সেখান থেকে রিকশা বা অটোরিকশায় মোটর ঘাট। ভাড়া গাড়ি নিয়ে লালাখাল ও জাফলং ঘুরে আসা যাবে দিনেও। আবার এ পথে বাসেও যাওয়া যায়। থাকার জন্য নানা মানের নানা ভাড়ার হোটেল ও রিসোর্ট আছে সিলেট শহর ও এর আশেপাশে।

শুক্রবার, ২৩ আগস্ট, ২০১৩

J ফ্লোটিং গুয়াভা মার্কেট, ঝালকাঠি

লেখাটি এখান থেকে নেয়া হয়েছে 
বাংলাদেশের উৎপাদিত মোট পেয়ারার প্রায় ৮০ ভাগই উৎপাদিত হয় ঝালকাঠির বিভিন্ন গ্রামে।আটগর, কুরিয়ানা, ডুমুরিয়া, বেতরা, ডালুহার, সদর ইত্যাদি এলাকার প্রায় ২৪,০০০ একর জমতে পেয়রার চাষ হয়।আর এ পেয়ারা বেচা কেনার জন্য স্বরুপকাঠিতে গড়ে উঠেছে বাংলাদেশের সবচে বড় ভাসমান বাজার। প্রতি মৌসুমে এ বাজারে প্রায় ৫০০ কোটি টাকার বেচাকেনা হয়। সময় পেলে এ এলাকায় একবার ঢু মেরে আসতে পারেন।

কিভাবে যাবেন : ঢাকা থেকে প্রতি সন্ধ্যায় (৬-৭.৩০ এর মধ্যে) ৪-৫ টি লঞ্চ ছেড়ে যায় হুলারহাট/বাগেরহাটের উদ্দেশ্যে। এসব লঞ্চ এ উঠে স্বরুপকাঠী নেমে পরবেন। বরিশাল গিয়ে সেখান থেকেও বাসে যাওয়া যায়।

এছাড়া স্বরুপকাঠির সরাসরি বাস আছে গাবতলী থেকে। েযতে পারেন তাতেও।

J কোথায় দেখবেন জোসনা


লেখাটি এখান থেকে নেয়া হয়েছে 
জোসনা ভালোবাসেন না এমন মানুষ খুজে পাওয়া দুষ্কর। আবার অনেকে আছেন জোসনা বলতে পাগল। আমি এ দলের। জোসনা রাত আমাকে পাগল করে দেয়। খুব ছোটবেলা নানাবাড়ি বেড়াতে যেতাম। সেসময় সূর্যমনির মেলা বলে একটা মেলা হতো বরিশালের বানারীপারা, আমার নানাবাড়ি থেকে মাইল ছয়েক দুরে। সে মেলায় গ্রামের আত্মীয় স্বজনদের সাথে আমিও যেতাম। ওরা বাড়ির সব কাজ শেষ করে রওনাই হতো সন্ধ্যার দিকে। মেলায় ঘোরা শেষ করে ফিরতে ফিরতে রাত ১ টা। সে রাতে সদ্য ধান কাটা ক্ষেতের মাঝ দিয়ে উথাল পাথাল জোসনার যে ভয়ংকর রুপ আমি দেখেছি তা এ জীবনে ভুলতে পারবোনা।

সে থেকে জোসনা পাগল আমি। আমি জানি এমন আরো অনেকেই আছেন। তবে ঢাকা বা বড় শহরগুলোতে জোসনা দেখার সুযোগ কম। তবু চেষ্টা থাকলে কিনা হয়। আমিও কয়েকটা জায়গা বের করে ফেলেছি জোসনা দেখার জন্য। সময় পেলেই চলে যাই। আপনিও যে কোন জোসনা রাতে বন্ধু বা প্রিয়তমাকে নিয়ে চলে যান নীচের যে কোন জায়গায় :

১. ঢাকার আগারগাওয়ে অবস্থিত শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস।

ঢাকার সবচে সেরা স্থান এটি জোসনা দেখার জন্য। চীন মৈত্রির সামনে নেমে রিক্সায় সোজা পশ্চিম দিকে রাস্তা। এখানকার কয়েকটি স্থান আছে :

- দক্ষিন দিকের গেট দিয়ে ঢুকে একেবারে উত্তর দিকে যেতে হবে। এরপর একটু পুব দিকে এগোলেই একটা বড় পুকুর। এ পুকুরের জংলা ঘাটটায় বসে পরুন।

- মুল ভবন (সম্ভবত রেজিষ্টার ভবন) এর সামনে ধান ক্ষেতের মাঝে বড় বাধানো চত্বরটায়

- লেডিস হলের কাছে গাছ পালা ঘেরা জায়গাটায়।

এসব জায়গায় এক বক্স ভুনা খিচুরি, এক ফ্লাক্স চা আর কিছু স্নাক্স নিয়ে কয়েকটা ঘন্টা কাটান কোন এক চাদনী রাতে, বাচতে ইচ্ছে করবে আরো হাজার বছর।

২. বিকেল ৬ টার সময় চড়ে বসুন বরিশালগামী রকেট ষ্টিমারে। কেবিন নয়, সোজা চলে যান ছাদে, মাষ্টারের রুম পার হয়ে একেবার ষ্টিমারটির সামনের দিকে। মুন্সিগন্জ পার হবার পর মনে হবে একি পৃথিবী নাকি স্বর্গ নেমে এসেছে দুনিয়াতে। সময় কম থাকলে রাত ১টার দিকে চাদপুর নেমে যান তারপর ফিরতি রকেটে (রাত ২ টায়) ঢাকা পিরে আসুন। এ ট্রিপটা শুধু চাদনী রাত নয়, অন্ধকার রাতগুলোতে করতে পারেন। তখন দেথবেন অনন্ত নক্ষত্র বীথি।

৩. মাওয়া চলে যান বিকেলের দিকে। ইলিশ মাছ ফ্রাই দিয়ে গরম ভাত খেয়ে একটা ফেরির ছাদে উঠে বসুন (রো রো ফেরিতে উঠবেন না, উঠবেন ডাম্প ফেরিতে। ডাম্প ফেরি মানে যে ফেরিগুলো অন্য একটি টাগবোট টেনে নেয়।) টাগবোটের ৩ তলার মাষ্টার ব্রিজের সামানে একটা নামাজের জায়গা আছে। আকাশের দিকে মুখ করে সোজা শুয়ে পরুন। ঘন্টা আড়াই পরে পৌছাবে কাওড়াকান্দি ঘাটে। ফিরতি ফেরিতে আবার ফিরে আসুন। ভাড়া নেবে মাত্র ২০ টাকা করে।

৪. পদ্মা রিসোর্টে যান পূণিমা রাতের পরের বিকেলে। একটা রিসোর্ট ভাড়া নিনি ৫/৬ জন মিলে তাহলে খরচটা কমে যাবে। এরপর...এরপর দুরন্ত পদ্মার বুকে বসে চাদের উথাল পাথাল জোসনায় ভাসুন সারা রাত। আহা! সে কি আনন্দ!!

রিসোর্ট এর ভাড়া পড়বে : ২৫০০০.০০ (বিকেল ৫ টা থেকে পরদিন সকাল ১০ টা)ভ বুকিং দিতে যোগাযোগ করুন : ৮৭৫২৬১৭ অথবা মেইল করুন : trip2bangla@gmail.com

৫. নরসিংদির উয়ারী বটেশ্বর এ বিরাট এক ধানক্ষেতের পাশে একটি সরকারী গেষ্ট হাউস আছে। এটির বৈশিষ্ট হলো ২ য় তলায় বিশাল রুমটির সামনে বিরাট একটি খোলা ছাদ। অসাধারন একটি জায়গা। এই গেষ্ট হাউজটিতে বুকিং দেয়া একদম সোজা, ভাড়াও কম। বাজার ও রান্নার দায়িত্ব অনায়াসে দেয়া যায় এর কেয়ারটেকারের ওপর। রাতের খাবার খেয়ে রুমের সামনে খোলা জায়গাটিতে বসে যান। রাত কখন শেষ হবে টেরও পাবেন না।

৬. টংগীর পুবাইলের ক্যাপ্টেন বাড়ির কথা হয়তো অনেকে জানেন। প্রাকৃতিক এক ভুমিকে অবিকৃত রেখে আরো প্রাকৃতিক করা হয়েছে ডিজাইনারের নিপুণ ছোয়ায়। এক জোসনা রাতে আগে থেকে থবর দিয়ে চলে যান সেখানে। প্রাকৃতিক গাছপালা আর শান্তু বিলের পারে বসে কাটিয়ে দিন রাতটা।

খরচ : এখানে জনপ্রতি নেয়া হয় ২০০০ টাকা নাস্তা, দুপুর ও রাতের খাবার সহ। যোগাযোগ - ০১৯১৯৭৮২২৪৫

সময় বেশী থাকলে :

৭. টাংগাইলের ধনবাড়িতে একটা পুরোনো রাজবাড়ি আছে যা এখন রিসোর্ট হিসেবে চালু হয়েছে। নাম ধনবাড়ি রয়্যাল রিসোর্ট। এখাকার মুল Palace এর ভাড়া বেশী তাই সেখানে না থেকে কাচারী বাড়িটা ভাড়া নিন আর সামনে বিশাল মাঠে বসে জোসনা উপভোগ করুন।

যেভঅবে যাবেন - ঢাকার মহাখালি থেকে সরাসরি ধনবাড়ির বাস ছাড়ে। সময় নেবে ৪ ঘন্টা আর ভাড়া সম্ভবত ২০০ টাকা। রয়্যাল রিসোর্ট এর ভাড়া ২০০০ টাকা থেকে শুরু। তবে এরা বিভিন্ন ট্রাভেল ফেয়ারে ৫০% ডিসকাউন্ট দেয়। সে সময় বুকিং দিয়ে রাখবেন। ঢাকা অফিস : লাইট হাউস গ্রুপ, বিএসআরএস ভবন, ৭ ম তলা, কারওয়ান বাজার, ঢাকা ফোন- ৯১৩০৯০০, ০১৭২৩-৫৪১৩৪৬ (নামজমুল হাসান)

৮. ময়মনসিংহ শহর পার হয়ে মুক্তাকাছার দিকে মাইলতিনেক গেলে হাতের ডানে খাগডহরে ব্রম্মপুত্র নদী তীরে গড়ে উঠেছে River Palace নামে আনিন্দ সুন্দর এক রিসোর্ট। এ রিসোর্ট এর বারান্দায় বা পেছনের নদী তীরে বসে একটা রাত কেনো গোটা জীবনটাই পার করে দেয়া যায়।

যেভাবে যাবেন : ময়মনসিংহ পর্যন্ত বাসে। বাস ষ্ট্যান্ড থেকে কাচিঝুলি পর্যন্ত যাবেন রিক্সায়। এরপর মুক্তাকাছার ম্যাক্সিতে উঠে বসবেন। রিসোর্ট ভাড়া ১০০০, ১৫০০ এবং ২০০০ টাকা। ঠিকানা : হোটেল River Palace, খাগডহর, ময়মনসিংহ। ফোন : ০১৭১০-৮৫৭০৫৪

৯. শ্রীমংগল শহর থেকে মাইল চারেক দুরে আছে রাধানগর ইকো কটেজ। একটা ছোট ছড়ার পাশে অবস্থিত ছন বাশ দিয়ে তৈরী কটেজটির সামরে উঠোনে বসে একটা জোসনা রাত কাটান। জীবেনর কাছে আর কিছুই চাইবার থাকবেনা।

যেভাবে যাবেন : শ্রীমংগল পর্যন্ত বাসে বা ট্রেনে। সেখান থেকে সিএনজিতে রাধানগর শামসু মিয়া ইকো কটেজ বল্লেই নিয়ে যাবে। ভাড়া নেবে ১০০ টাকা। কটেজ ভাড়া ২০০০ থেকে শুরু। বুকিং : trip2bangla@gmail.com, ওয়েব :http://www.trip2bangladesh.com/srimongol-nisharga-eco-cottage/

১০. মনপুরা দ্বীপ হতে পারে আরেকটি দারুন জায়গা জোসনা দেখার। এখানকার মেঘনা নদী তীর ঘেষা যে কোন একটি জায়গায় ক্যাম্প করে জোসনা দেখতে পারেন কম খরচে।

যেভাবে যাবেন : ঢাকার সদরঘাট থেকে টিপু-৫ / পানামা নামে একটি লঞ্চ ছেড়ে যায় সন্ধে সাড়ে ৫ টার সময়। এটি মনপুরা হয়ে হাতিয়যায়। মনপুরা পৌছাবে সকাল ৭ টার সময়।

ভাড়া- ২০০ টাকা (ডেক), ৮০০/১৫০০ (কেবিন), ফোন : পানামা ০১৭৪০৯৫১৭২০। টিপুর নম্বর এখান থেকেই নিতে পারবেন কারন মালিক একজনই।

১১. বান্দরবান এর পর্যটন মোটেলটি আরেকটি প্রিয় জায়গা আমার জোসনা দেখার। এর একপাশে লেক আর আশপাশের পাহাড় জোসনা রাতগুলোতে যে কি পরিমান অপার্থিব লাগে তা যিনি না গেছেন বুঝতে পারবেন না।

যোগাযোগ- ফোন ০৩৬১-৬২৭৪১, ভাড়া- ১০৫০/১৮০০ টাকা